“পুতিনের মতোই ‘শান্তি’ চান জেলেনস্কিও!”-ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে দুজনকেই ফোন করলেন ট্রাম্প

দীর্ঘ আড়াই বছরের সংঘাতের পর, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবার দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মসনদে বসার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের অঙ্গীকার করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
বিশ্বের নজর এদিকে হলেও, ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা দীর্ঘ কথোপকথন করেন এবং তাঁর সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডেলে জানিয়ে দেন, এই আলোচনা ইতিবাচক ছিল। তিনি দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকে চলতে থাকা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের তরফ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। ক্রেমলিনের দাবি, দুই নেতার আলোচনায় এই মুহূর্তে যুদ্ধ বন্ধের উপযুক্ত সময় হিসেবে সম্মতি মিলেছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি এবং মানবিক বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, “এবার সময় এসেছে এই যুদ্ধের ইতি টানার।” তিনি আরও বলেন, শান্তির জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে, এবং প্রয়োজনে একে অপরের দেশে গিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হবেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্য, এআই এবং অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দল থেকে মার্কিন সচিব মার্কো রুবিও, সিআইএ ডিরেক্টর জন ব়্যাটক্লিফ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজ এবং রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার পর জেলেনস্কির কাছ থেকেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। জেলেনস্কি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন চাইছেন তিনি।
শুক্রবার মিউনিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, ওই বৈঠকটি ফলপ্রসূ হবে এবং দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে।