‘ইচ্ছে করলেই কেউ সন্ন্যাসী হয়ে যেতে পারে না!’ মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক রামদেব

নয়ের দশকের বলিউডের অন্যতম বম্বশেল মমতা কুলকার্নি আবার খবরের শিরোনামে। অক্ষয় কুমার, সলমন খান, সানি দেওল, আমির খানের সঙ্গে রুপালি পর্দায় ঝড় তোলা এই অভিনেত্রী এবার সন্ন্যাসীর পথ বেছে নিয়েছেন। সদ্য মহাকুম্ভ মেলায় এসে গেরুয়া বসন পরে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন মমতা। ধ্যান, তপস্যা, ও গঙ্গাস্নানের মধ্য দিয়ে নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মমতা কুলকার্নি জানিয়েছেন, ২০০০ সাল থেকেই তিনি তপস্যায় মগ্ন। বলিউড থেকে সরে গিয়ে আত্মিক শান্তির পথে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। তিনি বলেন, “২৩ বছরের ধ্যান ও তপস্যার মাধ্যমে আমি বহু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি। মহাকাল ও মহাকালীর ইচ্ছায় আমি এই পথ বেছে নিয়েছি। বলিউডে ফেরার আশা যারা করেছিল, তাদের হতাশ করায় দুঃখিত। কিন্তু এটি আমার আধ্যাত্মিক পথের অংশ।”
মমতার সন্ন্যাস গ্রহণ নিয়ে একাংশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। মহাকুম্ভে অংশ নেওয়া অনেক সাধু-সন্ন্যাসীই মমতার এই আচরণকে ‘ভণ্ডামি’ বলে সমালোচনা করেছেন। যোগগুরু রামদেবও এ বিষয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “ইচ্ছে করলেই কেউ সন্ন্যাসী হয়ে যেতে পারে না। সাধু হওয়া একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, যা অর্জন করতে পঞ্চাশ বছরও লেগে যায়। আজকাল কুম্ভে এসে কেউ রিলস বানাচ্ছে, কেউ সাধ্বী বা বাবা হওয়ার দাবি করছে। এটি কুম্ভের প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়। কুম্ভ মানে ব্রহ্মজ্ঞানের খোঁজ।”
কুম্ভমেলায় মমতার সন্ন্যাস গ্রহণের ঘটনা নিয়ে সাধু-সন্ন্যাসীদের মধ্যে যেমন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনই অনেকেই তাঁর আধ্যাত্মিক যাত্রাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এক সময়ের বলিউড কুইনকে এই নতুন ভূমিকায় দেখতে পেয়ে অনেক ভক্তই বিস্মিত।
মমতা বলেন, “আমি জানি আমার এই সিদ্ধান্তে অনেকেই হতাশ। তবে এটাই আমার প্রকৃত পথ। বলিউডে যে জীবন আমি কাটিয়েছি, তা আজ অতীত। আমার নতুন জীবনের লক্ষ্য একমাত্র ঈশ্বরের সান্নিধ্য ও আত্মিক উন্নতি।”
বলিউড থেকে আধ্যাত্মিকতার পথে মমতার যাত্রা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। যেখানে একদিকে রয়েছে তাঁর ভক্তদের ভালোবাসা, অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন। তবে মমতার নিজের কথায়, “মহাকাল ও মহাকালীর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। আমি শুধু সেই ইচ্ছার অনুসরণ করছি।”