‘ভেবেছিলাম ছেড়ে দেব, কিন্তু আমায় ছাড়া ও অসহায় হয়ে পড়বে’, ডিভোর্সের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন কাম্বলির স্ত্রী

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলি শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের কারণে বারবার শিরোনামে এসেছেন। মদ্যপানের অভ্যাসের কারণে অসুস্থ হওয়া, রিহ্যাবে যাওয়া, এমনকি স্ত্রীকে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন এক কঠিন অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এই লড়াইয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী আন্দ্রিয়া হেউইট, যিনি একসময়ে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েও স্বামীর অসহায়তার কথা ভেবে তা প্রত্যাহার করেন।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে আন্দ্রিয়া হেউইট জানিয়েছেন, একসময় বিনোদ কাম্বলির সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা ভেবেছিলেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং মানসিক দুর্বলতা দেখে সেই সিদ্ধান্ত বদলান। আন্দ্রিয়া বলেন,”আমি ভেবেছিলাম আলাদা হয়ে যাব, কিন্তু বুঝলাম ও আমার ছাড়া অসহায় হয়ে পড়বে। ও বাচ্চাদের মতো আচরণ করত, যা আমাকে কষ্ট দিত এবং চিন্তায় ফেলত। ওকে ছেড়ে দেওয়ার ভাবনা এলেও আমার মনের ভিতর একটাই প্রশ্ন ঘুরত—ও খেয়েছে কিনা, ঘুমিয়েছে কিনা।”

বিনোদ কাম্বলি মদ্যপান ছাড়ার জন্য অন্তত ১৪ বার রিহ্যাবে গিয়েছেন। যদিও বারবার চেষ্টা করেও পুরোপুরি সুস্থ জীবনধারায় ফিরতে পারেননি। গত বছরের শেষ দিকে গুরুতর অসুস্থতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

কাম্বলির ব্যক্তিগত জীবনও অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রথম স্ত্রী নোয়েলা লুইসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি ২০০৬ সালে আন্দ্রিয়াকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে—ছেলে জেসাস ক্রিশ্চিয়ানো কাম্বলি এবং কন্যা জোহানা।

ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালনেও মনোযোগী। আন্দ্রিয়া জানান, “ক্রিশ্চিয়ানো খুবই সংবেদনশীল। ও জানে, এই পরিবারে আমিই বাবা, আমিই মা। ও কখনও আমাকে বিরক্ত করে না, বরং আমার মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখে।”

স্ত্রীর নিরন্তর সমর্থন এবং পরিবারের ভালোবাসা বিনোদ কাম্বলির জীবনের বড় ভরসা। সম্প্রতি তাঁর ৫৩তম জন্মদিনও সপরিবারে উদযাপন করা হয়েছে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ৫০তম বর্ষপূর্তিতেও তাঁকে স্ত্রীর সহায়তায় অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিনোদ কাম্বলির জীবনের এই লড়াই কেবল একজন খেলোয়াড়ের চড়াই-উতরাইয়ের গল্প নয়, বরং পরিবার, ভালোবাসা, এবং মানসিক সমর্থনের শক্তিরও প্রতিফলন। আন্দ্রিয়ার কথায়—”দুঃসময়ে পাশে থাকা শুধু বন্ধুত্বের নয়, সম্পর্কেরও প্রকৃত পরীক্ষা।”