‘অনুব্রত ফ্যান ক্লাব’ ঘিরে তুমুল বিতর্ক, সিউড়িতে ফুটপাথ দখল, জেনেনিন কী ঘটেছে?

বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে ফের নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত বছর তিহাড় জেল থেকে মুক্তির পর ধীরে ধীরে রাজনীতিতে ফিরে আসেন ‘কেষ্ট’। এখন তাঁর নামে সিউড়িতে একটি ফ্যান ক্লাব তৈরি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ফুটপাথ দখল করে এই ফ্যান ক্লাব গঠন করা হয়েছে, যা সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেয়া ফুটপাথ বেদখল নিয়ে মন্তব্যের পর আরও তীব্র হয়েছে।

ফুটপাথ দখল করে ফ্যান ক্লাবের উদ্বোধন
সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডের কাছেই একটি নতুন ফ্যান ক্লাব তৈরি করা হয়েছে, যা সোমবার উদ্বোধন করেন বীরভূমের তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী। তবে, এই ক্লাব তৈরির পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক ওঠে, কারণ ফুটপাথের অংশ দখল করে এটি স্থাপন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারা রাজ্যে ফুটপাথ বেদখল নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, আর সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে যে, কীভাবে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নামে এমন একটি ফ্যান ক্লাব ফুটপাথে তৈরি করা হলো।

ফ্যান ক্লাবের ব্যানারে মমতার ছবি, অভিষেকের নেই
একটি আরেকটি বিতর্কিত দিক হল, সিউড়িতে ওই ফ্যান ক্লাবের ব্যানারে শুধু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রয়েছে, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নেই। যা নিয়ে দলের内部ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে যে এলাকাটি তৃণমূলের প্রধান শক্তির কেন্দ্র, সেখানে এমন একটি ঘটনা ঘটার কারণে দলের মধ্যে বিভাজন হতে পারে বলে কিছু মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিকাশ রায়চৌধুরীর বক্তব্য
বিকাশ রায়চৌধুরী, এই বিতর্কের বিষয়ে একে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেন, “ফুটপাথ থেকে ৩ ফুট ছাড় রেখে সমস্ত নিয়ম মেনে এই ফ্যান ক্লাব তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসন যদি মনে করে, তবে তারা এটি সরিয়ে দিতে পারে।” তাঁর দাবি, তারা কোনও আইন ভঙ্গ করেননি এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করেছেন।

বিজেপির দীপক দাসের মন্তব্য
এদিকে, বীরভূমের বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি দীপক দাস এই ঘটনাকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “এটা খুবই অন্যায় কাজ। ফুটপাথ দখল করা চলে না, এবং কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নামে এমন কিছু করা কখনই আইনসঙ্গত হতে পারে না।” দীপক দাসের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস নিয়ম না মেনে রাজ্যের আইনকে অবমাননা করছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে।

আলোচনার মধ্যেই ‘কেষ্ট’ রাজনীতিতে সক্রিয়
এখন প্রশ্ন উঠছে, গত বছর জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ধীরে ধীরে রাজনীতিতে ফিরে আসা অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা কেন বাড়ছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাকে কেন্দ্র করে যে ধরনের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং আলাদা প্রভাব তৈরি করছে, তা দলের ভেতর বিরোধের সৃষ্টি করতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা। তবে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

এভাবে সিউড়ির ফ্যান ক্লাব নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কেবল বীরভূম বা রাজ্য রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরকার রাজনৈতিক সংঘর্ষকেও প্রকাশ করে। সময়ের সঙ্গে দেখা যাবে, এই বিতর্ক আরও কতটা জটিল হয়ে ওঠে।