দুর্দান্ত খেলেও রোহিতের জন্য বাদ, তবুও কিংবদন্তির সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করায় উচ্ছ্বসিত আয়ুষ

মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রঞ্জি অভিষেকেই ১৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ক্রিকেট বিশ্বে নিজের আগমন বার্তা জানান দিয়েছিলেন আয়ুষ মাত্রে। মুম্বইয়ের হয়ে প্রথম রঞ্জি ম্যাচেই দলকে জিতিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতে নেন এই তরুণ ক্রিকেটার। এরপর সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে শেষ রঞ্জি ম্যাচেও ফের শতরান করেন আয়ুষ। ১১৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে আবারও ম্যাচের সেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। রঞ্জির প্রথম পাঁচটি ম্যাচেই আয়ুষ মাত্রে ৪৫.৩৩ গড়ে মোট ৪০৮ রান সংগ্রহ করেছেন।

শুধু রঞ্জি ট্রফি নয়, বিজয় হাজারে ট্রফিতেও তার ব্যাট সমানভাবে কথা বলেছে। দ্বিতীয় লেগের রঞ্জি অভিযান শুরুর আগে বিজয় হাজারে ট্রফির শেষ ম্যাচে মুম্বইয়ের হয়ে ১৪৮ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। এর আগে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে ৭৮ এবং নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৮১ রানের দুটি অসাধারণ ইনিংস উপহার দেন আয়ুষ।

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, শেষ রঞ্জি ম্যাচ ও শেষ বিজয় হাজারে ম্যাচে শতরান করা সত্ত্বেও জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে চলতি রঞ্জি ম্যাচের প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি ১৭ বছর বয়সী আয়ুষ মাত্রের। রোহিত শর্মাকে প্রথম একাদশে অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে তাকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসতে হয়।

এত ভালো পারফর্মেন্সের পরেও প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়লে সাধারণত যে কারো মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে, তবে আয়ুষ মাত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বিন্দুমাত্র হতাশ নন, বরং রোহিত শর্মার মতো একজন কিংবদন্তির সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। আয়ুষ ছোটবেলা থেকেই রোহিত শর্মাকে নিজের আদর্শ মেনে চলেন। তাই নিজের আদর্শের জন্য এই ‘স্বার্থত্যাগ’ তিনি আনন্দের সঙ্গেই মেনে নিয়েছেন।

জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে রঞ্জি অভিযানের মাঝেই আয়ুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় রোহিতকে নিয়ে একটি বিশেষ বার্তা পোস্ট করেন। ইনস্টাগ্রামে রোহিতের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘টেলিভিশনে ওনাকে ব্যাট করতে দেখেই আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করি। এখন নিজের আইডলের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়াটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। এই পথচলায় অনেক কিছু শিখতে পারব।’

তবে, আয়ুষের এই আত্মত্যাগের প্রতিদান দিতে পারেননি রোহিত শর্মা। ফর্মে থাকা আয়ুষকে বসিয়ে রোহিতকে মাঠে নামানো হলেও, রোহিত ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হন। প্রথম ইনিংসে ১৯ বলে মাত্র ৩ রান করে আউট হন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেট হয়েও উইকেট ছুঁড়ে আসেন। দুটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৩৫ বলে ২৮ রান করে তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

এই ঘটনাটি একদিকে যেমন আয়ুষের ক্রীড়াপ্রেম ও আদর্শের প্রতি আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তেমনই অন্যদিকে রোহিত শর্মার ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলে।