তরুণীকে দু’দিন আটকে রেখে ধর্ষণ, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন যুবক

বান্ধবীকে দেখা করার অজুহাতে ডেকে এনে পরিত্যক্ত স্থানে আটকে রেখে দু’দিন ধরে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে বিশাল সাহানি নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে শিলিগুড়ি মহিলা থানার পুলিশ। ধৃত বিশাল শিলিগুড়ির খোলাইবখতরি এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ ও মারধরের মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শিলিগুড়ি মহিলা থানার আইসি মমতাজ বেগম জানিয়েছেন, তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল বিশাল।
মাটিগাড়া থানা এলাকার ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে খোলাইবখতরির ২৯ বছর বয়সী বিশালের পাঁচ মাস ধরে পরিচয় ছিল। সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। চলতি মাসের ৯ তারিখে বিশাল দেখা করার জন্য তরুণীকে ডাকে। প্রথমে রাজি না হলেও, শেষবারের মতো দেখা করার কথা বলে বিশাল তরুণীকে শিশুডাঙ্গির মাঠে ডেকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে শিলিগুড়ি জংশন এলাকার ডিজেল শেডের একটি পরিত্যক্ত আবাসনে নিয়ে যাওয়া হয়।
তরুণীর অভিযোগ, সেখানে দু’দিন ধরে তাকে আটকে রেখে লাগাতার ধর্ষণ করা হয়। এই সময় তার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং তাকে দু’দিন ধরে কোনো খাবারও দেওয়া হয়নি। তরুণী একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। মেয়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং কোনো খোঁজ না পেয়ে পুলিশের কাছে যান। ১১ তারিখ রাতে কোনোক্রমে ওই এলাকা থেকে পালিয়ে ১২ তারিখ ভোরে নিজের বাড়িতে পৌঁছান তরুণী। এরপরই তার পরিবারের লোকজন মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশের তৎপরতা ও তদন্ত:
অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সোমবার রাতে খবর আসে অভিযুক্ত যুবক নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছে। এই খবরের ভিত্তিতে মহিলা থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিশালকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তরুণী পালিয়ে গেছে বুঝতে পেরে বিশাল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রেলের পরিত্যক্ত আবাসন নিয়ে উদ্বেগ:
এদিকে, রেলের পরিত্যক্ত আবাসনগুলি এখন পুলিশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আবাসনগুলিতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্ম হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।