যানজটের জ্বালায় জর্জরিত কলকাতা, দেশের মধ্যে শীর্ষে, জেনেনিন বিশ্বে কততম স্থান?

কলকাতা শহরের যানজট এখন শুধু রাজ্য বা দেশের সমস্যা নয়, বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। টমটম ট্র্যাফিক ইনডেক্সের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, যানজটের নিরিখে কলকাতা দেশের মধ্যে প্রথম এবং বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। এই তালিকায় প্রথম স্থানে আছে কলম্বিয়ার ব্যারানকুইলা শহর, যেখানে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষের বাস।

বেঙ্গালুরু, পুনে, মুম্বইকে পেছনে ফেলে শীর্ষে কলকাতা:

এতদিন যানজটের কথা উঠলেই বেঙ্গালুরু, পুনে বা মুম্বইয়ের নাম উঠে আসত। কিন্তু টমটমের এই রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতাই এখন দেশের সবচেয়ে যানজটপূর্ণ শহর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্র্যাফিকে আটকে থাকার যে অভিজ্ঞতা এতদিন বেঙ্গালুরুর বাসিন্দাদের ছিল, এখন সেই একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন কলকাতার মানুষ। এই সমীক্ষা প্রমাণ করে যে কলকাতা ক্রমশ আরও ঘিঞ্জি শহরে পরিণত হচ্ছে।

কলকাতায় ১০ কিমি যেতে লাগে ৩৪ মিনিটের বেশি:

রিপোর্ট বলছে, কলকাতায় গড়ে ১০ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগে ৩৪ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড। এখানে গাড়ির গড় গতি প্রতি কিলোমিটারে ১৭.৪ ঘণ্টা। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুতে একই দূরত্ব যেতে সময় লাগে ৩৪ মিনিট ১০ সেকেন্ড। যানজটের তালিকায় প্রথম পাঁচটি ভারতীয় শহর হল কলকাতা, বেঙ্গালুরু, পুনে, হায়দ্রাবাদ এবং চেন্নাই। এই তালিকায় রাজধানী নয়াদিল্লি অনেক পিছনে, দশম স্থানে রয়েছে। দিল্লিতে ১০ কিলোমিটার যেতে গড়ে ২৩ মিনিট সময় লাগে।

বিশ্বের সবচেয়ে যানজটপূর্ণ শহরের প্রথম দশে কলকাতা:

বিশ্বের সবচেয়ে যানজটপূর্ণ ও ব্যস্ততম শহরের তালিকায় প্রথম দশে ভারতের তিনটি শহর জায়গা করে নিয়েছে। কলকাতা, বেঙ্গালুরু এবং পুনে (চতুর্থ স্থানে)।

নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া:

কলকাতার বাসিন্দারা এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শ্রুতি সাহা নামে এক বাসিন্দা বলেন, “কলকাতা আরও ঘিঞ্জি হয়ে উঠছে। দ্রুত নগরায়নের ফল ভুগছে এই প্রাচীন শহর। এই খবরটি সত্যিই চিন্তার। এতে শুধু সময় নষ্ট হয় না, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে অর্থের অপচয়ও হয়।” অভিজিৎ দাস নামের আরেকজন বলেন, “প্রতিদিন এই ভয়াবহ ট্র্যাফিক সহ্য করতে করতে ক্লান্ত। তার সঙ্গে বায়ু দূষণও চরমে পৌঁছেছে।”

এই সমীক্ষা কলকাতার যানজট সমস্যার ভয়াবহতা তুলে ধরেছে এবং এই সমস্যার সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে। এই পরিস্থিতিতে, কলকাতার ট্র্যাফিক ব্যবস্থার উন্নতি এবং গণপরিবহনের উপর আরও বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।