চাহিদা নেই, মোবাইল উৎপাদন ৫০% ছাঁটাই, উদ্বেগ চাকরির বাজারে

মোবাইল উৎপাদনে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার উৎপাদন-ভিত্তিক উৎসাহদান (PLI) প্রকল্প চালু করলেও, বাজারে হ্যান্ডসেটের চাহিদা কমে যাওয়ায় এই প্রকল্পে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। PLI প্রকল্পের আওতায় গড়ে ওঠা মোবাইল ফোন কারখানাগুলিতে উৎপাদন প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ফিচার ফোন এবং এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনের চাহিদা তলানিতে ঠেকেছে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের মতে, ২০২৪ সালের শেষে ভারতে মোবাইল ফোন উৎপাদনের ক্ষমতা বছরে ৫০০ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। যদিও ইলেকট্রনিক ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার (ELCINA) মতে, এই সংখ্যা ৪০০-৪২০ মিলিয়ন ইউনিট। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বছরে মাত্র ২৫০ মিলিয়ন ইউনিট মোবাইল ফোন উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে ২০০ মিলিয়ন ইউনিট ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাচ্ছে এবং বাকিটা (বেশিরভাগ আইফোন) বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
ডিক্সন টেকনোলজিস, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স, টাটা ইলেকট্রনিক্স এবং ফক্সকনের মতো সংস্থা PLI প্রকল্পে যুক্ত হয়ে ভারতে মোবাইল ফোন উৎপাদন করছে। তবে লাভা ইন্টারন্যাশনাল, কার্বন এবং মাইক্রোম্যাক্সের মতো দেশীয় সংস্থাগুলি PLI প্রকল্পের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। কিছু সংস্থা মোবাইল ফোন উৎপাদন ছেড়ে টেলিকম যন্ত্রাংশ বা ওয়্যারেবল (যেমন স্মার্টওয়াচ, ফিটনেস ব্যান্ড) উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছে, আবার কেউ কেউ কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণ কী?
মোবাইল ফোনের উৎপাদন কমার এই প্রবণতা নতুন নয়, ২০২২ সাল থেকেই শুরু হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় হ্যান্ডসেটের চাহিদা প্রায় থমকে গিয়েছিল। বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর বাজারে চাহিদা বাড়লেও, ২০২২ সাল থেকে ফিচার ফোন ও এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনের চাহিদা কমতে শুরু করে।
চাহিদা কমার ফলে চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে বাজারে ফিচার ফোনের সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। এর মধ্যে ৪জি ফিচার ফোনের সরবরাহ কমেছে ৪৬ শতাংশ। ২০২২ সালে স্মার্টফোনের সরবরাহ ১০ শতাংশ কমার পর ২০২৩ সালে মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছিল। ২০২৪ সালে স্মার্টফোনের সরবরাহ প্রায় একই জায়গায় স্থির আছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোনের চাহিদা বাড়বে এবং PLI প্রকল্পে যোগদানকারী ফোন নির্মাতারা এর সুবিধা নিতে পারবে।
উল্লেখ্য, PLI প্রকল্প চালু হওয়ার পর ভারতের স্মার্টফোন উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ শতাংশ বেড়েছে এবং বিভিন্ন স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থা মিলিয়ে ৯,১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। সম্প্রতি ফক্সকন, টাটা ইলেকট্রনিক্স ও পেগাট্রনের মতো আইফোন উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে।
সংক্ষেপে, PLI প্রকল্প ভারতের মোবাইল উৎপাদন খাতকে উৎসাহিত করলেও, চাহিদা কম থাকায় বর্তমানে উৎপাদন কম হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশা, ২০২৫ সালে চাহিদা বাড়লে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।