BigNews: ভারতে HMP ভাইরাসে আক্রান্ত ৪, রাজ্যগুলিতে জারি হলো সতর্কতা

চিনে ত্রাস সৃষ্টি করা হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস (HMPV) এখন ভারতেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গুজরাট ও কর্ণাটকের পর এবার কলকাতাতেও এই ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। যদিও ভারত সরকার জানিয়েছে যে HMPV এর সংক্রমণ এই দেশে নতুন নয়, এর আগেও এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
সূত্রের খবর, গত নভেম্বরেই কলকাতায় ৬ মাসের এক শিশু HMPV তে আক্রান্ত হয়েছিল। তবে, কয়েকদিনের চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু, সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে একসঙ্গে দুই শিশুর (যাদের মধ্যে একজনের বয়স ৩ মাস ও অন্যজনের ৮ মাস) শরীরে এই ভাইরাস মেলায় চিন্তা আরও বেড়েছে।
সরকারের বক্তব্য:
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে HMPV ভারতে নতুন নয়। এর আগেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা গেছে। তাই নতুন করে সংক্রমণ ধরা পড়লে সেটাকে ‘ভারতে প্রথম’ বলা যায় না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই:
কর্ণাটকের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী দিনেশ গুন্ডু রাও জানিয়েছেন, “এই ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, তাই হাসপাতাল বা বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারির কোনো প্রয়োজন নেই।“ তিনি আরও বলেন, “এখনো পর্যন্ত এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করতে হবে।“
স্কুলগুলোতে সতর্কতা:
বেঙ্গালুরুর দিল্লি পাবলিক স্কুলের (DPS) বোর্ড সদস্য মনসুর আলি খান জানিয়েছেন, HMPV এর সংক্রমণ সামনে আসার পর স্কুলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, বাচ্চাদের সামান্য কাশি, সর্দি বা গলা ব্যথা হলেও যেন স্কুলে না পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, পরীক্ষা চলাকালীন কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে, তাকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাকে তৎক্ষণাৎ অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
HMPV কি?
হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস (HMPV) একটি সাধারণ শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস। এটি মূলত শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সংক্রমিত করে। এই ভাইরাসের লক্ষণগুলি হল –
জ্বর
কাশি
নাক দিয়ে জল পড়া
গলা ব্যথা
শ্বাসকষ্ট
বিশেষজ্ঞদের মতে, HMPV নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলেই এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আবশ্যক। কোনো রকম উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।