‘শিক্ষাশ্রী’র টাকা ঢুকল খোদ শিক্ষকের ব্যাঙ্ক আ্যাকাউন্টে?-ফের শোরগোল বাংলায়

ট্যাব কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কোচবিহারে শিক্ষাশ্রীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই শিক্ষক নিজের এবং আত্মীয়দের একাধিক অ্যাকাউন্টে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাশ্রীর টাকা সরিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলায়। জেলা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ় করেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সৌভিক বর্মন। তিনি শীতলখুচি হাইস্কুলের অঙ্কের শিক্ষক। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পবিত্র বর্মন জানান, গত ১৬ই ডিসেম্বর জেলা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর থেকে একটি চিঠি আসে। চিঠিতে চারজন ছাত্রছাত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়, যাদের অ্যাকাউন্টে শিক্ষাশ্রীর টাকা জমা পড়েনি। অথচ, তাদের অ্যাকাউন্টের যে নম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি ভুল ছিল।

এই বিষয়ে নোডাল শিক্ষক সৌভিক বর্মনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। এরপর প্রধান শিক্ষক নিজে তদন্ত শুরু করলে আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। দেখা যায়, টাকা যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে শিক্ষকের নিজের অ্যাকাউন্ট এবং তাঁর আত্মীয়স্বজনের বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টও রয়েছে।

স্কুলের মোট ৬৮৫ জন ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাশ্রীর টাকা পাওয়ার কথা। প্রাথমিকভাবে ১৫০ জনের নাম ও অ্যাকাউন্ট নম্বর যাচাই করা হলে, ২৩ জনের নামের সঙ্গে অ্যাকাউন্টের গরমিল পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ মিটিং ডেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ় করে।

জেলা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক জয়ন্ত মণ্ডল জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক শোকজের উত্তরে জানিয়েছেন যে, ভুলবশত এমনটা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুরো বিষয়টি অতিরিক্ত জেলাশাসক ও জেলাশাসককে জানানো হবে এবং তাদের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তফশিলি জাতি, উপজাতি এবং ওবিসি ছাত্রছাত্রীদের প্রতি বছর ৮০০ টাকা করে শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের অধীনে দেওয়া হয়। এই টাকা বিতরণের জন্য প্রতিটি স্কুলে একজন নোডাল শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যিনি নির্দিষ্ট পোর্টালে ছাত্রছাত্রীদের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর সহ যাবতীয় তথ্য আপলোড করেন। অভিযোগ, এখানেই জালিয়াতি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সৌভিক বর্মনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এই ঘটনায় শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।