মোবাইল কেড়েছে মাঠ, পড়ুয়াদের ফুটবলমুখী করতে BIG STEP নিলো এই জেলা

আগেকার দিনে বিকেল হলেই ছেলেরা মাঠে ছোটাছুটি করত, ফুটবল খেলত। বৃষ্টিও তাদের আটকাতে পারত না। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য প্রায় দেখাই যায় না। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাঠের বদলে মোবাইলের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় ফুটবলের সেই জৌলুস যেন অনেকটাই কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ এক উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিয়েছে। জেলার প্রায় শতাধিক কিশোরকে নিখরচায় আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, বিদেশি কোচ এবং খ্যাতনামা ফুটবল খেলোয়াড়দের এনে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন বছরের শুরুতেই বাছাই করা খেলোয়াড়দের নিয়ে কোচিং শুরু হবে বলে জানিয়েছে জেলা পরিষদ।

একসময় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে ফুটবলের ব্যাপক চর্চা ছিল। স্কুল, কলেজ এমনকি গ্রাম ও শহরতলির ছেলেরাও বিকেল হলেই মাঠে ফুটবল খেলতে যেত। কিন্তু বর্তমানে মোবাইল গেমের প্রতি আসক্তির কারণে যুবকদের মধ্যে মাঠে গিয়ে খেলার আগ্রহ কমে গেছে। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল যুবকদের মাঠমুখী করা এবং ফুটবলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা।

জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী জানিয়েছেন, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জাপান, আর্জেন্টিনা সহ একাধিক ফুটবল-খ্যাত দেশের কোচেদের সাথে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। তাদের তত্ত্বাবধানেই এই প্রশিক্ষণ শিবির চলবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খেলোয়াড়দের বয়স অনুযায়ী পাঁচটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। জেলার ৪৭টি সার্কেলের স্কুলগুলির মধ্যে প্রথমে প্র্যাকটিস ম্যাচ আয়োজন করা হবে। এই ম্যাচগুলিতে উপস্থিত থাকবেন আন্তর্জাতিক মানের কোচেরা, যারা খেলোয়াড়দের দক্ষতা যাচাই করে বাছাই করবেন। বাছাইকৃত শতাধিক কিশোর খেলোয়াড়কে পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী আরও বলেন, “ফুটবল প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এই খেলা আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। জেলাশাসকের সাথে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানের কোচ দিয়ে ১০০ জনের বেশি কিশোরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাদের প্রোটিনযুক্ত খাবারও দেওয়া হবে। আমরা আশাবাদী যে এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খেলোয়াড়রা শুধু কলকাতা নয়, দেশের নামও উজ্জ্বল করবে।”

সংক্ষেপে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ জেলার খুদে ফুটবলারদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং সম্ভবত ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়াড় তৈরিতে সহায়ক হবে।