নভেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড স্তরে, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দেশের অর্থনীতি

নভেম্বর মাসে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মূলত সোনা আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অশোধিত তেলের দাম কমার কারণে রপ্তানি কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা রপ্তানি ও আমদানি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, নভেম্বরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৩৭.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেখানে অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন এই অঙ্ক ২৩.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে থাকবে। অক্টোবরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৭.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাণিজ্য ঘাটতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই বেশি।

পরিসংখ্যান বলছে, নভেম্বরে ৩২.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যেখানে আমদানি হয়েছে ৬৯.৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। অক্টোবরে ৩৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি এবং ৬৬.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি হয়েছিল। এর থেকে স্পষ্ট যে রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নভেম্বরে সোনার আমদানি ১৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড উচ্চতা ছুঁয়েছে, যা অক্টোবরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ (অক্টোবরে ছিল ৭.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এমকে গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর মুখ্য অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা জানান, “বাণিজ্য ঘাটতি এত বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো সোনার আমদানি। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ সোনা আমদানি বেড়েছে।” তিনি আরও বলেন, সোনা কেনা এবং বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে সোনার দামও বেড়েছে।

অশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায় রপ্তানি কমেছে বলে জানান ভারতের বাণিজ্য সচিব সুনীল বার্থওয়াল। তিনি আরও জানান, সরকার ২০টি সম্ভাবনাময় দেশের উপর বিশেষ নজর রাখছে এবং রপ্তানি উন্নয়নের জন্য ৬টি উৎপাদন ও ৬টি পরিষেবা ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করেছে।

সামগ্রিকভাবে, নভেম্বরে ৬৭.৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ও পরিষেবা রপ্তানি এবং ৮৭.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল, যেখানে অক্টোবরে এই অঙ্ক ছিল যথাক্রমে ৭৩.২১ বিলিয়ন এবং ৮৩.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে বাণিজ্য ঘাটতি অর্থনীতিবিদদের অনুমানের থেকে অনেক বেশি।