BigNews: ‘জলচুরি’ করে বিক্রি হচ্ছে বাংলা জুড়ে, কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

হুগলি জেলার চণ্ডীতলার বাকশা গ্রামের কুসুম আচার্যের মতো হাজার হাজার বাঙালি গ্রামবাসী আজও পরিষ্কার পানীয় জলের জন্য হাহাকার করছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পের তিন বছর পরেও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পানীয় জলের চুরি ব্যাপক হারে চলছে।

পাইপলাইন থেকে জল চুরি: এক বড় সমস্যা

ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন থেকে জল চুরি পশ্চিমবঙ্গের ২ কোটি পরিবারকে পাইপবাহিত পানীয় জল সরবরাহের সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোটেল, পেট্রোল পাম্প, নির্মাণ সাইট, আইসক্রিম কারখানা, পোল্ট্রি ফার্ম, রাস্তার পাশের গ্যারেজ ও কৃষি খামারে জল চুরি করা হচ্ছে। এই সমস্যাটি পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়া জেলায় বিশেষভাবে দেখা যাচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে কোনও ধরনের মাটি পরীক্ষা না করেই বা জলের উৎস পরীক্ষা না করেই পাইপলাইন বসানোর বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
ত্রুটিপূর্ণ ডিপিআর তৈরিতে জড়িত ঠিকাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৬ সালের মধ্যে ২ কোটি বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পের কাজ এখনও অনেক পিছিয়ে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রায় ২০ হাজার ১৭০টি পয়েন্ট শনাক্ত করেছি, যেখান থেকে জল চুরি করা হচ্ছিল। ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনে গর্ত করে হোটেল, পেট্রোল পাম্প, নির্মাণ সাইট, আইসক্রিম কারখানা, পোল্ট্রি ফার্ম, রাস্তার পাশের গ্যারেজ ও কৃষি খামারে জল চুরি করা হচ্ছে।

জনগণের দুর্ভোগ

গ্রামবাসীরা প্রতিদিন পানীয় জলের জন্য কষ্ট করে ভোগান্তি করছেন। পঞ্চায়েতের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনও ফল পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার জন্য বিরোধী দলগুলি তীব্র সমালোচনা করছে। বিজেপি দাবি করেছে যে, তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রের ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, যার ফলে রাজ্যের মানুষ ভুগছে।

সমাধানের পথ
কঠোর আইন প্রয়োগ করে জল চুরি রোধ করা। পাইপলাইনগুলি নিয়মিত পরিদর্শন এবং মেরামত করা। ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। জল সংরক্ষণ এবং জলের অপচয় রোধ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এই গুরুতর সমস্যার দ্রুত সমাধান করার দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতিটি বাড়িতে পরিষ্কার পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।