“রাস্তায় শাড়ি পরে ঘুরছে ‘ভূত’”- আতঙ্কে কাঁপছে কদম্বগাছির বাসিন্দারা, সতর্ক করলো প্রশাসন

উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের কদম্বগাছি এলাকায় ভূতের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওতে একজন মহিলাকে রাতের অন্ধকারে ঘুঙুর বাজিয়ে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে। এই ভিডিওগুলির সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, এই মহিলাই ভূত।
এই ভিডিওগুলির কারণে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে কদম্বগাছি, উলা, বয়রা, কালসারা, কাঁঠালিয়া, জাগুলি এলাকার বাসিন্দারা এই আতঙ্কে বেশি ভুগছেন।
স্থানীয়রা এই ঘটনাকে নিয়ে বিভিন্ন মতামত দিচ্ছেন। কেউ কেউ এই ভিডিওগুলিকে সত্যি মনে করছেন আবার কেউ কেউ এটিকে গুজব বলেই উড়িয়ে দিচ্ছেন।
গুজব সমর্থকরা: তাঁরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। এই ভিডিওগুলি দেখলেই বোঝা যায় যে, এখানে কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে।
গুজবের বিরোধীরা: অন্যদিকে, অনেকেই বলছেন, এই ভিডিওগুলি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বানিয়েছে। এটি শুধুমাত্র মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য করা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য:
বারাসত এসডিপিও অজিঙ্ক অনন্ত এই ঘটনাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। গোটাটাই গুজব, কেউ রিল বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়েছে। কে বা কারা এই ভিডিয়ো বানিয়েছে, কাদের প্রোফাইল থেকে এমন ভিডিয়ো ভাইরাল হচ্ছে, খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যাঁরা এমন কাজ করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পশ্চিমবঙ্গ যুক্তিবাদী মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক প্রদীপ সরকার এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “সমস্তটাই মানুষকে বিভ্রান্ত ও অন্যপথে পরিচালিত করতে এটা রটানো হচ্ছে। এই ধরনের কোনও বিষয় নেই।”
এই ঘটনা থেকে আমরা শিখতে পারি যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সব তথ্যই সত্য হতে হয় না। আমাদের সবসময় কোনো তথ্য বিশ্লেষণ করে তার সত্যতা যাচাই করা উচিত। এই ধরনের গুজব ছড়ানোর ফলে সমাজে ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।