“চন্দননগরের আলো দেখলে এখন কষ্ট হয়”- জেনেনিন ফরসডাঙার আলোর জাদুকর কেন হতাশ?

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই সাবেকি প্রতিমা আর জমকালো আলোর চমক। কিন্তু এই আলোর জাদুকর শ্রীধর দাস এবার আর পুজোর আলো দেখতে বেরোন না। কারণ, আজকের চন্দননগরের আলো আর আগের মতো নয়।

এক সময় টুনি বাল্ব জ্বালিয়ে তিনি চন্দননগরকে আলোর রাজ্যে পরিণত করতেন। তার আলোকসজ্জার খ্যাতি দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু আজকাল চন্দননগরের আলো সবই চিনের তৈরি এলইডি। শ্রীধরবাবু বলেন, “আমি এখন আর চন্দননগরের আলো দেখতে বেরোই না। মনে কষ্ট লাগে। আমি যখন আলোকসজ্জা করতাম, থিম বা গল্প তুলে ধরতাম চন্দননগরের জন্যই। এখন বাইরে ঘুরে সেই আলো আসে। আগে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর আলো চন্দননগরের জিনিস দিয়েই তৈরি হতো। এখন তো সেটা হয় না। এখন এলইডি-র যুগ এসে গিয়েছে। এলইডি আমি সহ্য করতে পারি না। এখন আলো কিনে এনে তার কিংবা প্যাকাটিতে বেঁধে টাঙিয়ে দিচ্ছে। আমাদের আমলে তা ছিল না।”

আজকের চন্দননগরের আলোকসজ্জা শ্রীধরবাবুর কাছে কৃত্রিম মনে হয়। তিনি বলেন, “আগে আমরা আলোর সাহায্যে গল্প বলতাম, চন্দননগরের ইতিহাসকে তুলে ধরতাম। এখন সব কিছু খুবই বাণিজ্যিক হয়ে গেছে।”

শ্রীধর দাসের মনের কষ্ট অনেকের কাছেই স্পর্শ করবে। এক সময়ের আলোর জাদুকর আজ নিজের তৈরি জাদুর দেশে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন।