“পৃথিবীতে ধ্বংসযজ্ঞের শুরুই হবে মধ্যপ্রাচ্যে”- জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি এবং এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বিষাক্ত অবস্থায় আছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলে সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেছেন।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) আমেরিকান পডকাস্টার জো রোগানের অনুষ্ঠানে তিনি ঘণ্টার একটি সাক্ষাতকার দেন তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কসহ কমলাকে নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পৃথিবীতে ধ্বংসযজ্ঞের শুরুই হবে মধ্যপ্রাচ্যে। নবীরাই এমন কথা বলে গেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, অঞ্চলটি সম্পর্কে নবী এবং ভবিষ্যদ্বক্তারা যা বলে গেছেন তা ফলে যাবে। এ সময় তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যই সেই জায়গা যেখানে পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে।

ইউটিউবে প্রকাশের একদিন পরই ‘জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ শীর্ষ পডকাস্টে ট্রাম্পের বক্তব্য ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন।

তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় ট্রাম্প ভাইস প্রেসিডেন্ট কামলা হ্যারিসের সমালোচনা করে বলেন, ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েল আক্রমণ করছে। আমাদের একটি যুদ্ধ চলছে এবং তিনি (কমলা হ্যারিস) পার্টি করছেন। তখন কমলা হ্যারিস টেক্সাসে একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কামলা হ্যারিস ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের সময় তেল আবিবকে কিছু না করার জন্য বলেছিলেন।

ওই সাক্ষাতে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রশংসা করেছেন। কারণ ইসরায়েলের বাইডেনের কথা না শুনেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, ইসরায়েল যদি বাইডেনের কথা শুনত, তবে এখন তাদের মাথার ওপর একটা বোমা পড়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতো।

এ সময় ট্রাম্প আরো বলেন, বাইডেন এত কিছুতে ভুল করেছেন! আমি মনে করি, এটাও বলতে হবে যে, তিনিও (কমলা হ্যারিস) ভুল করেছেন। কারণ, জানেন তো, তারা সব সময় একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ইরানকে লক্ষ্য করে শনিবার মধ্যরাতে বিমান হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল। এর আগে গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ১৮১টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল ইরান।

গত বছর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল-ইরানের শত্রুতা নতুন পর্যায়ে পৌঁছায়। এই সময়ের মধ্যে ইরান প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের সরাসরি হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েলও ইরানে হামলা চালায়।

এই যুদ্ধের আগে ইরান ও ইসরায়েল উভয়ই উভয়ের স্বার্থ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু সেগুলো তারা স্বীকার করত না। কিন্তু এখন প্রকাশে হামলা পাল্টা হামলা চলছে।