বিশেষ: ন্যানো তৈরির কথা কেন মাথায় আসে রতন টাটার? ১৬ বছর পর সেই তথ্য জানালেন নীরা

রতন টাটা এক লাখ টাকার গাড়ি নিয়ে যে সাড়া ফেলেছিলেন, তা আজও স্মরণীয়। তাঁর স্বপ্ন ছিল, ভারতের প্রত্যেক মানুষের হাতে নিজের গাড়ি তুলে দেওয়া। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই তিনি ন্যানো গাড়ি তৈরি করেছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে ন্যানোর কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে গুজরাটের সানন্দে কারখানা স্থানান্তরিত হয়।

নীরা রাডিয়ার মতে:

রতন টাটার সাথে দীর্ঘদিন কাজ করা নীরা রাডিয়া জানান, টাটা সবসময় দেশের উন্নতির কথা ভাবতেন। তিনি চাইতেন, ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হোক। ন্যানো গাড়ি এই স্বপ্নেরই একটি অংশ ছিল।

এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নীরা রাডিয়া বলেন, রতন টাটা একজন দূরদর্শী মানুষ। আর দেশের জন্য গর্ব বোধ করতেন তিনি। বিশ্বায়নে বিশ্বাস করতেন তিনি। বিদেশের প্রযুক্তি এনে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে যাতে আরও উন্নত করা যায়, সেই চেষ্টাই করতেন তিনি।

একসময় রতন টাটার অনেক সিদ্ধান্তই খুব কাছ থেকে নিতে দেখেছেন নীরা রাডিয়া। সাক্ষাৎকারে তিনি বলছেন, রতন টাটা চেয়েছিলেন, সাধারণ মানুষকে বাইকে চেপে যেন ভিজতে না হয়। সেই সব মানুষের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন তিনি।

কেন ন্যানো?

রতন টাটা চাইতেন, মানুষ যেন ভাড়ার গাড়ি বা বাসের উপর নির্ভর না করে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন, একদিন ভারতের প্রতিটি পরিবারের গ্যারেজে একটি গাড়ি থাকবে। ন্যানো গাড়ি দেশের অর্থনীতিতে নতুন এক অধ্যায় যোগ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।

সিঙ্গুরের বিরোধ:

সিঙ্গুরে কারখানা স্থাপনের বিরোধের কারণে টাটাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই ঘটনা ভারতীয় শিল্প জগতে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছিল।

গুজরাটে সফলতা:

গুজরাটে ন্যানোর উৎপাদন শুরু হলেও, আশা করা মতো সাফল্য পাওয়া যায়নি। বাজারে অন্যান্য গাড়ির তীব্র প্রতিযোগিতা এবং গাড়ির কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে ন্যানোর বিক্রি কমে যায়।

একটি স্বপ্নের শেষ:

যদিও ন্যানো গাড়ি আশা করা মতো সাফল্য পায়নি, তবুও রতন টাটার এই উদ্যোগ ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। তাঁর দূরদর্শিতা এবং দেশপ্রেমের জ্বালায় তিনি ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন।