চন্দ্রাভিযানে অলড্রিনের পরা সেই ‘স্পেস জ্যাকেট’ বিক্রি, দাম প্রায় ২৩ কোটি

অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযানে করে চাঁদে যাওয়ার সময় মার্কিন নভোচারী বাজ অলড্রিনের পরিহিত সেই স্পেস জ্যাকেটটি ২৮ লাখ ডলারে (প্রায় ২৩ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এক নিলাম অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক এই জ্যাকেটটি বিক্রি করে আন্তর্জাতিক নিলামকারী সংস্থা সোথবি।

মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ৯২ বছর বয়সী বাজ অলড্রিন তার পরিধেয় ও ব্যবহৃত যে ৬৯টি বস্তু বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এই স্পেস জ্যাকেট ছিল তার মধ্যে একটি। এ যাবৎকালে নিলামে আমেরিকার যত মহাকাশসামগ্রী বিক্রি হয়েছে অলড্রিনের জ্যাকেটের দাম সবচেয়ে বেশি।

প্রাক্তন নভোচারী অলড্রিন ১৯৬৯ সালে চাঁদে গিয়েছিলেন। অ্যাপোলো-১১ মিশনে যে তিনজন নভোচারী চাঁদে যান, তাদের মধ্যে শুধু অলড্রিন জীবিত আছেন। ছয় দিনের সে মহাকাশ যাত্রার বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও নাসার লোগো দিয়ে সজ্জিত সাদা রঙের ওই জ্যাকেটটি পরেছিলেন অলড্রিন। শুধু চাঁদের পৃষ্ঠতলে নামার সময় সেটি পরিবর্তন করে প্রেশার স্যুট পরেছিলেন।

অ্যাপোলো-১১ মিশনে করে প্রথমবারের মতো তিনজন মার্কিন মহাকাশচারীর চাঁদে অবতরণের সেই দৃশ্য টেলিভিশনে দেখেছিলেন বিশ্বজুড়ে ৬৫ কোটি মানুষ। চাঁদের পৃষ্ঠে ২১ ঘণ্টা অতিবাহিত করার পর বাজ অলড্রিন ও নিল আর্মস্ট্রং অ্যাপোলো-১১-তে ফিরে আসেন এবং আবারও তাদের স্পেস জ্যাকেট পরিধান করেন। নিলামে বিক্রি হওয়া সেই স্পেস জ্যাকেটটির সঙ্গে বাজ অলড্রিন যে নোট দিয়েছেন সেখানে তিনি সেটিকে ‘অনেক বেশি আরামদায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বেটা নামে পরিচিতি আগুন প্রতিরোধী কাপড়ের তৈরি এই সাদা জ্যাকেট ১৯৬৯ সালের চন্দ্রজয়ের মহাকাশ মিশনে ব্যবহৃত প্রথম বিক্রি হওয়া কোনো পোশাক।

সোথবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্রির জন্য নিলামে তোলার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই মুঠোফোনের মাধ্যমে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি জ্যাকেটটি কিনে নেন। নভোচারী অলড্রিনের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা বেশ কিছু সামগ্রী মোট ৮২ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। তবে কবে সেই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা জানানো হয়নি।