রাজ্যপালের রক্ষাকবচের পরিধি কতটা? ‘শ্লীলতাহানি মামলায়’ কেন্দ্রকে নোটিস পাঠালো সুপ্রিম কোর্ট

সংবিধানের 361 ধারায় রক্ষাকবচ: ভারতের সংবিধানের 361 ধারায় রাজ্যপালকে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তবে, এই ‘রক্ষাকবচ’ কতটা প্রযোজ্য, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রাজভবনের এক অস্থায়ী কর্মীর ‘শ্লীলতাহানি’র অভিযোগে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর, এই প্রশ্নটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ:
এই মামলায় কেন্দ্রকে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।তিন সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রকে জবাব দিতে হবে।পরবর্তী শুনানি হবে তিন সপ্তাহ পর।
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর বক্তব্য:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সঞ্জয় বসু মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ অভিযোগকারিণীর পক্ষে।
তিনি বলেন, “যৌন নিগ্রহের মতো ঘটনা কখনই চাপা দেওয়া যাবে না।”
রাজভবনের দাবি:
রাজভবনের তরফে দাবি করা হচ্ছে, অভিযোগটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দীপিত এবং রাজ্যপালের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা।
তারা দাবি করে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া:
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ “অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ”।
তিনি বলেন, “এই নির্দেশে রাজ্যপালের রক্ষাকবচ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।”
আগামী পদক্ষেপ:
এই মামলাটি ভারতের আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
রাজ্যপালের ‘রক্ষাকবচ’ কতটা প্রযোজ্য, তা নির্ধারণ করতে সুপ্রিম কোর্টের রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়াও, কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যপালের মানহানির মামলাও চলছে।
উল্লেখযোগ্য:
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে তাদের যুক্তি প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
এই মামলার রায় ভারতের রাজনৈতিক ও আইনি পরিমণ্ডলে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।