মাত্র ১৫, ১৭-তে ঝরে গেল তামিম-ফারহানরা, কোটা আন্দোলনে নিহত সাংবাদিকও

‘একদিন তো আপনাকেও পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই এমন ভাবে বাঁচুন, যাতে মানুষ আপনাকে মনে রাখে।’

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ইন্ট্রোতে রেসিডেনশিয়াল মডেলে কলেজের ছাত্র ফারহান ফাইয়াজ এই কথাগুলোই লিখেছিল। কথাটা যেন সত্যি হয়ে গেলো বৃহস্পতিবার। ১২ই জুলাই, ২০২৪। কোটা আন্দোলনের ঝড়ে ভেসে যায় ফারহানের জীবন।

ক্লাস ১২-এর ছাত্র ফারহান, ক্লাস নাইনের তাহমিদ তামিম – দুই কিশোরের মৃত্যু যেন ক্ষোভের আগুনে আরও তীব্র করে তুলেছে বাংলাদেশকে।

ফারহান:

ধানমন্ডির বাসিন্দা
রেসিডেনশিয়াল মডেলে কলেজের ছাত্র
মেধাবী ও মিশুক
১৮ বছর বয়স
জন্মদিনের কয়েকদিন আগেই মৃত্যু
সানগ্লাস চোখে ছবি ফেসবুকে ভাইরাল

তাহমিদ:

নরসিংদীর বাসিন্দা
ক্লাস নাইনের ছাত্র
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আন্দোলনে ছিল না, সিনিয়রদের জমায়েত দেখছিল
গুলির শিকার

দুই কিশোরের মৃত্যুতে ক্ষোভ:

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন, ‘ওরা তো নাইন আর টুয়েলভ। ওদেরও ছাড়ল না!’
ফারহানের আত্মীয় নাজিয়া খান ফেসবুকে পোস্ট, ‘দিস ইজ় মাই ফারহান আইয়াজ। হি ইজ ডেড নাও। আই ওয়ান্ট জাস্টিস’
তাহমিদের মৃত্যুতে মানতে পারছেন না কেউই
দাবি, তাহমিদ কোনও আন্দোলনে ছিল না

হাসান মেহেদী:

ঢাকা টাইমসের তরুণ সাংবাদিক
যাত্রাবাড়ীতে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ
নিজের প্রাণকে তুচ্ছ করে সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন
৭ মাসের কন্যা সন্তান রয়েছে
বিয়ের দু’বছরও হয়নি
এই নিরীহ মানুষের মৃত্যুর পরে সমাজমাধ্যমে #stepdownhasina হ্যাশট্যাগও দেখা গিয়েছে।

বাংলাদেশে চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, দফায় দফায় বিক্ষোভের মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯।

ফারহান ও তাহমিদের মৃত্যু যেন একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে সমাজের দিকে। এই তরুণ প্রাণগুলোর মৃত্যুর দায়িত্ব কার? কোন সমাধানে আসবে শান্তি?