বিশেষ: আগামী ৩ দশকে নারী-পুরুষের গড় আয়ু বাড়বে ৫ বছর, বলছে গবেষকরা

আগামী ৩ দশক বা ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে নারী-পুরুষের গড় আয়ু বাড়বে ৫ বছর। আয়ু বাড়লেও মেদবহুল হওয়ার প্রবণতা ও উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ বাড়বে ভয়ানকভাবেই। নতুন এক গবেষণায় এমনটিই বলছেন গবেষকরা। দ্য ল্যানসেট পত্রিকায় গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। খবর ডেইলি মেইল ও ডয়েচে ভেলের।

গবেষকদের মতে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০৫০ সালে গিয়ে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের আয়ু গড়ে ৭১ বছর ১ মাস থেকে বেড়ে ৭৬ বছর হবে। অন্যদিকে নারীদের গড় আয়ু ৭৬ বছর ২ মাস থেকে বেড়ে ৮০ বছর ৫ মাস হবে।

গবেষকরা বলছেন, বিশ্বে এখন যেসব দেশের মানুষের গড় আয়ু কিছুটা কম, সেসব দেশের মানুষের আয়ু বেশি বাড়বে। সাব সাহারান-আফ্রিকায় মানুষের গড় আয়ু বাড়বে সবচেয়ে বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট অব হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভাল্যুশনে’র (আইএইচএমই) ডিরেক্টর ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ মেট্রিকস সায়েন্সের অধ্যাপক ড. ক্রিস মারে বলেন, গড় আয়ুর ক্ষেত্রে বেশি আয়ের দেশ ও কম আয়ের দেশের মধ্যে বৈষম্য থাকবে, তবে ব্যবধান খানিকটা কমবে। বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য যে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, তার ফলেই মানুষের আয়ু বাড়বে।

বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯, নানা সংক্রামক রোগ, মাতৃত্বকালীন রোগ, শিশুদের রোগ ও অপুষ্টিজনিত সমস্যা কাটাতে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তার ফলেই আগামী ৩ দশকে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষকরা এটিও বলছেন, মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও মোটা বা মেদবহুল হওয়ার প্রবণতা এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ বাড়বে বহুগুন। ফলে মানুষকে অনেকটা ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে।

গবেষণা তথ্য বলছে, ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে মানুষের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থুলরোগের প্রবণতা ৫০ শতাংশ বেড়েছে। মূলত অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, বায়ুদূষণ, ধূমপানের মতো বিষয়গুলো মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।

ড. মারে বলেন, নেতিবাচক এসব প্রভাব ঠেকানোর একটা বড় সুযোগ আমাদের রয়েছে। বিশেষ করে জীবনযাপন সংক্রান্ত সমস্যা শুধরে নেওয়া গেলে এসব রোগের হাত থেকে মুক্তি পাবে মানুষ।