সিকিমে খারাপ আবহাওয়া জেনেও পারমিট ইস্যু কেন? সরকারকে প্রশ্ন পযর্টকদের

টানা পাঁচ দিন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আটকে থাকার পর অবশেষে উত্তর সিকিম থেকে উদ্ধার হয়ে বাড়ির পথে ফিরছেন পর্যটকরা। মঙ্গলবার মঙ্গনে পৌঁছে সিকিম প্রশাসনের কাছে তাদের একটাই আর্জি, জুন মাসে আর কখনো উত্তর সিকিমের পর্যটন পারমিট ইস্যু যাতে না করা হয়!।
সোমবার ৬৪ জনের পর মঙ্গলবার আরও ১২২৫ জন পর্যটক লাচুং, চুঙথাঙ-সহ উত্তর সিকিমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফিরে এসেছেন। ফেরা পর্যটকদের বেশিরভাগই কেরালা, মুম্বই এবং ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উত্তর সিকিমে আটকে পড়েছিলেন এই পর্যটকরা। অনেকেরই ট্রেন, বিমানের টিকিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। শিলিগুড়িতে ফিরে নতুন করে টিকিট কাটতে হবে তাদের। অনেকের কাছে টিকিট কাটার মতো টাকাও নেই।
ফেরার পথে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা নির্মলা দেবী বলেন, “জুন মাসে যখন সিকিমের আবহাওয়া এতটা খারাপ হয়ে যায়, তখন এভাবে পারমিট ইস্যু করে আমাদের বিপদে ফেলার মানে কী! উত্তর সিকিম থেকে ফিরলাম। বাড়িতে কীভাবে ফিরব সেটা এখনও জানি না।”
উত্তর সিকিমের জেলা পুলিশ সুপার সোনম ডেটচু ভুটিয়া বলেন, “আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার উড়ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই পর্যটকদের হেঁটে আনতে হচ্ছে। তবে বাচ্চা এবং বয়স্কদের সাহায্য করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী, সেনা জওয়ানরা কাজ করছেন। সবাইকে যত দ্রুত সম্ভব ফেরানো হবে।”
ঝাড়খণ্ডের দশ সদস্যের একটি পর্যটক দল ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। গত দশ দিন ধরে তারা লাচুংয়ে আটকে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে হেঁটে রওনা দেন তারা। মঙ্গনে পৌঁছাতে ১৭ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয় তাদের। বেশিরভাগ জায়গায় রাস্তা নেই। পাথর বিছানো সেই রাস্তায় হাঁটার যন্ত্রণায় অনেকের জ্বর এসেছে।
সিকিম রাজ্য প্রশাসন আটকে পড়া পর্যটকের সংখ্যা ১২১৫ বলে জানালেও আদতে প্রায় দুই হাজারের বেশি পর্যটক আটকে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর সিকিম সরকার জুন মাসে উত্তর সিকিম ভ্রমণে পর্যটকদের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।