“দিনে দুপুরে ডাকাতি, ভাবতেই পারছি না”-নিরাপত্তার দাবিতে সোচ্চার জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন

রবিবার দুপুরে রানিগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র তারবাংলা এলাকার একটি স্বর্ণ বিপণিতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রবিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ৯ জনের একটি ডাকাত দল মুখোশ পরিধান করে তারবাংলার একটি স্বর্ণ বিপণিতে ঢুকে।তাদের হাতে ছিল অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।দোকানের কর্মী ও গ্রাহকদের মুখোমুখি হয়ে হুমকি দিয়ে তারা দোকানের ভিতরে ঢুকে পড়ে।

এরপর দ্রুত তালার উপর থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।লুটপাটের সময় দোকানের কর্মী ও গ্রাহকদের সাথে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলি হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।পুলিশের সাথে ডাকাতদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং এলোমেলো গুলি চালাচালি হয়।পুলিশের গুলিতে একজন ডাকাত জখমী হয়।
এরপর ডাকাত দল পালিয়ে যায়।

এদিনের ঘটনা দেখে এখানকার ব্যবসায়ী মহল আতঙ্কিত। একইসঙ্গে পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করা হয়েছে।

রোহিত খৈতান বলেন, ‘শ্রীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ওসি নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। তার জন্য আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। দুষ্কৃতীরা ডাকাতির জন্য রবিবার বেছে নিয়েছে কেননা এই সোনার দোকানের কাছেই রয়েছে ব্যাঙ্ক। সপ্তাহের কাজের দিনগুলোয় ব্যাঙ্কের সামনে পুলিশের মোবাইল ভ্যান থাকে। এদিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই ওখানে মোবাইল ভ্যান ছিল না।

রানিগঞ্জ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলরাম রায় বলেন, ‘আমরা স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের উপরে এখনও ভরসা রাখছি। সিসিটিভির ফুটেজ থেকে তারা নিশ্চয়ই দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে পারবেন। এই বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমরাও লিখিত ভাবে পুলিশ-প্রশাসনের কাছে আরও নিরাপত্তার দাবি জানাব। তা না হলে ব্যবসা চালাতে সত্যিই অসুবিধা তৈরি হবে। মনে রাখতে হবে যে দোকানে ডাকাতি হয়েছে সেখানে কিন্তু অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষী ছিল। তাঁকে মারধর করে বন্দুক কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

একটি হার্ডওয়ার দোকানের মালিক দীপক জালান বলেন, ‘ভাবতেই পারছি না দিনের বেলা একটা দোকানে এভাবে লুট হয়ে গেল। সত্যিই এটা ভয়ের বিষয়।’