“বাবার একটা কথা রাখতে পারিনি…”-জনসভায় সর্বসমক্ষে আক্ষেপের সুর মমতার গলায়

২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচনে সরগরম দেশের রাজনীতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন সভা ও মঞ্চে দিচ্ছেন তাদের ভাষণ।আবার কোথায়ও কোথাও চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে কথার লড়াই। আবার কোথাও চলছে সরকারি সুবিধা ও অসুবিধা পাওয়া -না পাওয়ার বিষয়ে চর্চা।

আর এবার নিজের অপ্রিয় সত্যকথা বলার অভ্যাস প্রসঙ্গে বাবার স্মৃতি রোমন্থন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাবার একটা কথা রাখতে পারিনি। বাবা ছোটবেলা থেকেই বলত, তুই অপ্রিয় সত্য কথা কম বল। কারণ এর জন্য অনেক অশান্তিও হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে, আমি তখন খুবই ছোট। দোকানে বসেছিলেন এক ভদ্রলোক। একটা বাচ্চা পাড়া দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি দেখেননি, বিড়ি খাচ্ছিলেন, ছুড়ে দিয়েছেন। আর বাচ্চাটার গেঞ্জির পিছনটা পুড়ে গিয়েছে। এবার পাড়ায় বৈঠক বসেছে, কে পোড়াল? বিড়িটা কে ছুড়ল? কেউ ভয়ে বলে না। আমি বললাম আমি দেখেছি। গিয়ে বলে দিয়ে এলাম ওই ব্যক্তি বিড়িটা ছুড়েছেন। তখন বাবা বলছে, তুই কি আমার ঘরে আগুন লাগাবি? তুই আমায় পাড়ায় থাকতে দিবি না!’

মমতা সাফ কথা, ‘অপ্রিয় সত্য কথা আমি বলি। এটা থেকে কেউ আমায় আটকাতে পারবেন না।’

বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়কেও নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এখানে একজন প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছে (বিজেপি)। আমি তাঁর বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না। বলার প্রয়োজনও নেই। পালালেন কেন? আমাকেও তো রোজ চমকায়, ধমকায়, আমি তো পালাইনি। আমার পরিবারকেও কম বিরক্ত করেনি। আমার দলকেও রোজ বিরক্ত করে। এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও জেলে গিয়েছিলেন। কোনও প্রমাণ ছিল না। তিনি তো পার্টি ছেড়ে যাননি। মদন মিত্রকেও জেলে ঢুকিয়েছিল।’

তাপসকে কটাক্ষ করে মমতা আরও বলেন, আপনি ৩ বার জিতেছেন, তার অর্থ এটা নয় যে মানুষ আপনাকে ভোট দিয়েছে। মানুষ দলের প্রতীককে ভোট দিয়েছে, তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। আর একদিন সিবিআই গিয়েছে বলে ভয় পেয়ে গেলেন। এত ভয় পেয়ে গেলেন যে তাড়াতাড়ি বিজেপিতে চলে গেলেন। আমার কাছে খবর আছে যে এক বছর আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। বিজেপি এমনটাই করে। আমাদের অনেক লোক আছে। এমন নেতা আমাদের দরকার নেই।’