ISRLvsHAM: রণক্ষেত্র গাজার জাবালিয়া, ট্যাংক-বুলডোজার নিয়ে ঢুকেছে ইসরায়েলি সেনারা

গাজার আটটি শরণার্থী শিবিরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে শুক্রবার (১৭ মে) থেকে ট্যাংক-বুলডোজার নিয়ে প্রবেশ করে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে সেনারা। এছাড়া ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সুড়ঙ্গপথের কাছে সশস্ত্র যোদ্ধাদের সঙ্গে তীব্র লড়াই করছে তারা। এখন পর্যন্ত এক দখলদার সেনারা মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
ইসরায়েলি কমান্ডাররা বলছেন, গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের মধ্যে সম্ভবত শুক্রবার সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই হয়েছে। কারণ, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এ শরণার্থী শিবিরের সরু গলির আপেক্ষিক সুবিধা পাচ্ছে। তারা রকেট চালিত গ্রেনেড এবং বিস্ফোরক ডিভাইস দিয়ে আক্রমণ করছে।
জানা গেছে, শুক্রবার ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা জাবালিয়াতে দখলদার বাহিনীর অন্তত ২২টি অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। হামাস বলেছে, তাদের আক্রমণের ফলে শত্রুরা জাবালিয়া এলাকায় তাদের অবস্থান একাধিকবার পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
অক্টোবরে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক মাসের মাথায় জাবালিয়াকে হামাস মুক্ত করার দাবি করেছিল তারা। তবে গত সপ্তাহে সেখানে আবারো হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের দাবি, সশস্ত্র যোদ্ধাদের সেখানে পুনরায় একত্রিত হতে শুরু করেছে। তাই তাদের রুখতে জাবালিয়ায় আবারো হামলা শুরু করেছে তারা।
এদিকে, গাজা দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা শহরেও লড়াই চলছে। সেখানে প্রবেশ করা ইসরায়েলি ট্যাংকগুলোতে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র যোদ্ধারা।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মিসরের সীমান্তবর্তী গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার আকাশে কালো ধোয়া উঠতে দেখা গেছে। সেখানে হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে তীব্র লড়াই করছে ইসরায়েলি সেনারা। শহরটিতে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিচ্ছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র জেনস লার্ক বলেছেন, মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক অধিকাংশ মানুষই উত্তরে উপকূলের দিকে সরে যাচ্ছেন। তবে সেদিকে যাওয়ার জন্য না আছে নিরাপদ কোনো পথ, না আছে গন্তব্য।
এই যুদ্ধে প্রথম থেকেই অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নীরবতা ও তেলআভিভের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা হ্যারিসন মান।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধরত নয়শোর বেশি ইসরায়েলি সেনার মা-বাবা রাফায় অভিযান থামানোর অনুরোধ জানিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে লেখা এক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাফা তাদের সন্তানদের জন্য একটি ‘মৃত্যুফাঁদ’ এবং সেখানে অভিযান বন্ধ করা হোক।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আমাদের ছেলেরা শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্লান্ত। আর এখন আপনি তাদের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পাঠাতে চান? এটাকে অদূরদর্শিতা ছাড়া কিছুই মনে হচ্ছে না।
রাফায় যে কোনো লড়াই জটিল ও কঠিন হতে পারে। হামাস সেখানে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে কয়েক মাস সময় নিয়েছে এবং শহরের নিচে হামাসের সুড়ঙ্গের নেটওয়ার্কও অনেকটাই অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।