আমেরিকার আর্থিক সহায়তা কি পারবে ইউক্রেনকে রক্ষা করতে? কি বলছে বিশেষজ্ঞরা?

রাশিয়ার কাছে নাস্তানাবুদ পরিস্থিতিতে সামরিক সহায়তার জন্য মরিয়া হয়ে আবেদন জানায় ইউক্রেন। কয়েক মাস ধরে দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে ইউক্রেনের জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সহায়তা অনুমোদন করে বিল পাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মার্কিন সহায়তা কি ইউক্রেনকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারবে?
এর উত্তর মোটেও সহজ নয়। তবে এটা নিশ্চিত বলা যায়, এখন ইউক্রেনের সেনাদের নৈতিক মনোবল চাঙা হবে, তাতে করে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি উন্নতি হবে।
এদিকে, এশিয়ান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা আটকে থাকার পেছনে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ কাজ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বর মাসের নির্বাচনের পর ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার সম্ভাবনা আছে। ইউক্রেন ও দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বেশ সুপরিচিত। পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সখ্যের কারণে ইউক্রেন সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মৈত্রী বেশ অনিশ্চয়তায় পড়বে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের জন্য সহযোগিতা প্যাকেজ পাস করাতে নতুন সমস্যায় পড়তে হবে। এর আগে ২৭টি দেশের মধ্যে শুধু হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ওরবান ইউক্রেনকে সহায়তা করার বিরোধিতা করতেন। এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছেন স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো।
বিশ্লেষকরা মনে করছে, রাশিয়া যেভাবে তার প্রতিরক্ষা খাত শক্তিশালী করেছে এবং ব্যাপকভাবে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র-গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়িয়েছে, সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সমরশিল্প গতিশীল হতে পারেনি।