‘একতরফা ঘোষণা অনুচিত, আমরা চেয়েছিলাম…’,TMC -র প্রাথী ঘোষণায় ‘হতাশ’ কংগ্রেস

৪২টি লোকসভা আসনে রবিবার প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও জোট করবে না এ রাজ্যের শাসকদল।

৪২ আসনে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা ঘোষণার ঠিক পরই এক্স হ্যান্ডেলে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, ‘জাতীয় কংগ্রেস বারবার করে সম্মানজনকভাবে আসন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল তৃণমূলকে। আমরা চেয়েছিলাম আলাপ আলোচনার মাধ্যমে রফা হোক। একতরফা ঘোষণা করা হয়েছে, যা উচিত ছিল না।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমরা চেয়েছিলাম গোটা দেশের মতো বাংলাতেও জোটবদ্ধভাবে BJP-র বিরুদ্ধে লড়ুক INDIA।’

তৃণমূল কংগ্রেস রবিবার ৪২টি লোকসভা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, যা কার্যত ইন্ডিয়া জোটের সমাধিকে চিহ্নিত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কংগ্রেসের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস জোটে যেতে অস্বীকৃতি জানায় কারণ:

১. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একলা চলো’ নীতি:

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে ‘একলা চলো’ নীতিতে বিশ্বাসী।তিনি মনে করেন, জোট তৃণমূলের ভোট কেড়ে নেবে।২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল একাই জয়লাভ করেছিল, যা মমতার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।

২. কংগ্রেসের দুর্বলতা:
পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল।তৃণমূল মনে করে, কংগ্রেস জোটে থাকলে তাদের ভোট কেড়ে নেবে।কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও তৃণমূলকে জোটে যেতে অনাগ্রহী করে তোলে।

৩. অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মমতার ক্ষোভ:
কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছেন।তৃণমূল মনে করে, অধীর তাদের বিরুদ্ধে BJP-র হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছেন।ইউসুফ পাঠানকে অধীরের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বহরমপুরে প্রার্থী করা হয়েছে।

৪. তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস:
তৃণমূল মনে করে, তারা নিজেরাই রাজ্যে BJP-কে পরাজিত করতে পারবে।২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তাদের জয় তাদের এই আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।তৃণমূল চায়, লোকসভা নির্বাচনেও একাই জয়লাভ করে রাজ্যে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে।

৫. ‘হার্ড হিটার’ ইউসুফ পাঠানের মাধ্যমে বার্তা:
ইউসুফ পাঠানকে বহরমপুরে প্রার্থী করা তৃণমূলের একটি বড় চমক।তৃণমূল এর মাধ্যমে BJP-কে কঠোর লড়াই দেওয়ার বার্তা দিতে চায়।এটি কংগ্রেসের জন্যও চাপ সৃষ্টি করে, কারণ তাদের একজন জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।পরিশেষে, বলা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘একলা চলো’ নীতি, কংগ্রেসের দুর্বলতা, অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মমতার ক্ষোভ, তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস এবং ইউসুফ পাঠানের মাধ্যমে বার্তা দেওয়ার ইচ্ছাই বঙ্গে ইন্ডিয়া জোট কার্যকর না হওয়ার মূল কারণ।