মিশরের পিরামিড কী ভাবে পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের তালিকায় পেলো ঠাঁই? জানুন নেপথ্য ইতিহাস

মিশরের পিরামিড, পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম, প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে তৈরি। এর নির্মাণশৈলীর রহস্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও মানুষের কাছে কৌতূহলের বিষয়।
পিরামিড কী?
পিরামিড মূলত প্রাচীন মিশরের রাজাদের (ফারাও) সমাধিক্ষেত্র। কয়েক দশক ধরে নির্মিত এই স্থাপনাগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেছিলেন।
মিথ ও বিশ্বাস:
প্রাচীন মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল, ফারাওদের দেহ রক্ষা করতে পারলে তাদের স্বর্গসুখ হবে। তাই ফারাওদের মৃতদেহ (মমি) ‘কা’ নামক আত্মার সাথে পিরামিডে রাখা হত। ‘কা’কে বেঁচে রাখার জন্য খাবার এবং বাসস্থানের প্রয়োজন, তাই ফারাওদের সাথে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সমাহিত করা হত।
পিরামিড নির্মাণের ক্রমবিকাশ:
পিরামিড নির্মাণের আগে, মিশরীয়রা ছোট, চারকোনা ঘরে সমাধিস্থাপন করত। এই ঘরগুলোই পিরামিডের ধাপে ধাপে বিকশিত রূপ বলে ধারণা করা হয়। ইমহোতেপ নামক এক ব্যক্তিকে পিরামিড নকশার জনক বলে মনে করা হয়।
গিজার পিরামিড:
মিশরের সবচেয়ে বিখ্যাত পিরামিড হল গিজার পিরামিড, যা খুফুর পিরামিড নামেও পরিচিত। প্রায় ৪৫০ ফুট লম্বা এই পিরামিডটি তৈরি হয়েছিল প্রায় তিন হাজার বছর আগে। ৬০ টন ওজনের ২০ লাখেরও বেশি পাথর খণ্ড দিয়ে তৈরি এই পিরামিডটি মিশরের শতাধিক পিরামিডের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।
মিশরের পিরামিড শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, বরং প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার শিল্প, প্রযুক্তি এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন।