টাটা মোটরসকে ৭৬৫ কোটি টাকা? সিঙ্গুরের রায় চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গেল রাজ্য

২০০৮ সালে সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণের ঘটনায় টাটা মোটরসকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭৬৫ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছে রাজ্যের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন।

মামলার আপডেট:
সোমবার মামলাটি হাইকোর্টে উঠলে বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য ব্যক্তিগত কারণে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান।ফলে এই মামলা এখন ফিরে যাবে প্রধান বিচারপতির কাছে।সেখান থেকে মামলা অন্য এজলাসে পাঠানো হবে।

ট্রাইব্যুনালের রায়:
গত বছর ৩০ অক্টোবর তিন সদস্যের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল রায়ে জানায়, ক্ষতিপূরণ বাবদ টাটা মোটরস রাজ্যের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের কাছথেকে ৭৬৫ কোটি টাকা আদায় করতে পারবে।২০১৬-র ১ সেপ্টেম্বর থেকে ধরে ১১ শতাংশ সুদ সমেত ওই টাকা মেটাতে হবে বলেও নির্দেশে জানায় আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল।একই সঙ্গে মামলার খরচ বাবদ এক কোটি টাকাও মেটাতে বলা হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনকে।

রাজ্যের বক্তব্য:
রাজ্যের দাবি, ট্রাইব্যুনালের রায় ভুল এবং পক্ষপাতদুষ্ট।জমি অধিগ্রহণের সময় যে চুক্তি হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা উচিত।ট্রাইব্যুনাল চুক্তির বাইরে গিয়ে রায় দিয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ:
হাইকোর্টের নতুন এজলাস এই মামলার শুনানি নেবে।রাজ্যের আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখবে কি না, তা আদালত ঠিক করবে।

সিঙ্গুর বিতর্ক:
২০০৬ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে।জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল।
২০১০ সালে টাটা মোটরস সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।এরপর থেকেই টাটা মোটরস এবং রাজ্যের মধ্যে আইনি লড়াই চলছে।

সিঙ্গুর জমি অধিগ্রহণের ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। হাইকোর্টে এই মামলার রায় রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।