‘গাছ লাগাও, প্রাণ বাঁচাও’, বছরের পর বছর ধরে গাছ লাগিয়ে পদ্মশ্রী পেলেন দুখু মাঝি

গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অনুষ্ঠানে প্রায়ই বলা হয়, “গাছ লাগাও, প্রাণ বাঁচাও”। এই কথার তাৎপর্য বুঝতে পেরে গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে পাঁচ হাজারেরও বেশি গাছ লাগিয়েছেন পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি থানার সিন্ডরি গ্রামের দুখু মাঝি। তিনি এলাকায় ‘গাছদাদু’ নামে পরিচিত।

জানা যায়, একদিন দুখু মাঝির গ্রামে এক সাহেব এসেছিলেন। সাহেবটি দুখু মাঝিকে গাছ লাগানোর কথা বলেন। দুখু মাঝি ছিলেন একজন কৃষক। চাষ না করলে সংসার চলে না। তাই গাছ লাগানোর কথা তার কাছে যেন বিলাসিতা। কিন্তু সাহেবটি তাকে বুঝিয়ে দেন, গাছ না লাগালে একদিন পৃথিবীর অক্সিজেন শেষ হয়ে যাবে। তাই গাছ লাগানোর জন্য তিনি দুখু মাঝিকে অনুপ্রাণিত করেন।

সাহেবের কথা মনে রেখে দুখু মাঝি শুরু করেন গাছ লাগানোর কাজ। তিনি নিজের সামান্য জমি থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের ন্যাড়া জমিতে গাছ লাগাতে থাকেন। প্রথমদিকে অনেকেই তাকে ‘গাছ পাগল’ বলে ডাকতেন। কিন্তু দুখু মাঝি তাদের কথায় কান দেননি। তিনি তার কাজ চালিয়ে যান।

দুখু মাঝি শুধু গাছ লাগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি গাছের পরিচর্যা করার জন্যও সময় দেন। তিনি নিজেই গাছের জল দেন, সার দেন। তার পরিশ্রমের ফলে আজ সিন্ডরি গ্রামে পাঁচ হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে।

দুখু মাঝির এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে সর্বত্র। তার এই প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়ে কেন্দ্র সরকার তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এই পুরস্কার পেয়ে দুখু মাঝি অত্যন্ত খুশি। তিনি বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি, আমার গাছ লাগানোর নেশার জন্য আমি পুরস্কার পাব। আমি আমার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত গাছ লাগাতে থাকব।”

দুখু মাঝির এই উদ্যোগ আমাদের সকলকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, গাছ লাগানোর মাধ্যমে আমরা আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে পারি।