‘১০-১৫ মিনিটের জন্যও আসতে পারেন’, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আহ্বান কংগ্রেসের

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় একাই লড়বে বলে ঘোষণা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও আলোচনায় যাইনি। আমি জানতেও পারিনি যে রাহুল গান্ধী বাংলায় আসছেন।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পর কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিলাম, ইমেইলও করেছিলাম। তিনি আমাদের আমন্ত্রণ জানতেন। আমরা তাঁকে খুবই সম্মান করি। আমরা চাই তৃণমূল আসুক ও ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় অংশ নিক, বিশেষত মুখ্যমন্ত্রী নিজে আসুন। আমি জানি তাঁর প্রচুর কাজ, তবুও যদি তিনি ১০-১৫ মিনিটের জন্যও আসতে পারেন, তাহলে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার মাহাত্ম্য আরও বাড়বে।”

তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন তা ঠিক। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রী একাই যথেষ্ট। কোনও ন্যায় যাত্রার দরকার নেই। আর যদি ন্যায় যাত্রা করারই ছিল, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে করতে পারতেন।”

তৃণমূলের আরেক রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “এই রাজ্যে ইন্ডিয়া জোট কার্যকরী না হওয়ার কারণ হিসেবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে দায়ী করতে চাই।”

ইন্ডিয়া জোটের প্রথমদিকে যখন বৈঠক শুরু হয় সেই সময় কংগ্রেস ও তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে আলোচনার টেবিলে পাশাপাশি দেখা গেলেও রাজ্যে কখনও সেভাবে কাছাকাছি আসতে দেখা যায়নি এই দুই দলকে। একদিকে যেমন লাগাতার তৃণমূল ও রাজ্য সরকারকে নিশানা করে গিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী, তেমনই পালটা কংগ্রসেকে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেতারাও। আর বুধবার সরাসরি এই রাজ্যে জোট সম্ভাবনা খারিজ করে দেন মমতা। এখন দেখার জয়রাম রমেশের এহেন মন্তব্যের পরে রাজনৈতিক চিত্রে কোনওরকম পরিবর্তন আসে কি না।