একই পরিবারের তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু, সন্তানদের খুনের পর আত্মহত্যা?

উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি এবং মধ্যমগ্রামে একই দিনে দুইটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নৈহাটির শিবদাসপুর এলাকায় জ্যোতিপ্রকাশ মণ্ডল তার ৯ বছরের মেয়ে লাজবন্তি এবং ৬ বছরের ছেলে জয়মাল্যকে বিষ খাইয়ে খুনের পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

জ্যোতিপ্রকাশ মণ্ডলের স্ত্রী লাবনী মণ্ডল জানান, তার স্বামী এলাকার এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। যার জেরে তাদের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে লাবনী আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন জ্যোতিপ্রকাশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনই জ্যোতিপ্রকাশ তার ছেলেমেয়েকে নিয়ে মাঠে খেলতে আসতেন। আজ সকালে একজন তাকে মাঠে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে জ্যোতিপ্রকাশ এবং তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে, মধ্যমগ্রামের আটঘড়া এলাকায় সায়েরাবানু বিবিকে গলা কেটে খুনের পর দেহ ৬ টুকরো করে বস্তায় ভরে খালে ফেলেছে তার স্বামী নুরউদ্দিন মণ্ডল। খুনের পর অভিযুক্ত স্বামী নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে জানা গিয়েছে। জানা গেছে, একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল তাদের মধ্যে। জমি নিজের মেয়েকে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল সায়েরাবানুর। কিন্তু সেই জমি নিজের নামে লিখিয়ে নিতে চেয়েছিল নুরউদ্দিন। আর তার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ।

সায়েরাবানুর মেয়ে ফেরদৌসি জানান, তার বাবা-মায়ের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। জমি নিজের মেয়েকে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল সায়েরাবানুর। কিন্তু সেই জমি নিজের নামে লিখিয়ে নিতে চেয়েছিল নুরউদ্দিন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল রাতে নুরউদ্দিন তার স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করে। এরপর দেহ ৬ টুকরো করে বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেন। আজ সকালে স্থানীয়রা খালে একটি বস্তা ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে বস্তাটি উদ্ধার করে। বস্তাটি খুলে দেখতেই সায়েরাবানুর দেহের অংশ পাওয়া যায়।