শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি: ‘অন্যায়ভাবে যাঁরা সুযোগ পেয়েছেন তাঁদের চাকরি বাতিল হওয়া উচিত’, হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ

কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে, SSC-এর ভুলগুলো আগে স্বীকার করা উচিত ছিল। সনাক্ত করার দরকার ছিল যাঁরা বেআইনিভাবে নিয়োগ হয়েছেন তাঁদের। অন্যায়ভাবে যাঁরা সুযোগ পেয়েছেন তাঁদের চাকরি এখুনি বাতিল হওয়া উচিত।
এদিন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন যে, SSC সম্পূর্ণ তালিকা দেয়নি। স্ক্যান করে বলেনি এত জন ভুল ভাবে চাকরি পেয়েছে। প্রপার ডকুমেন্ট ছাড়া আইনজীবীদের বাদ দিয়ে নিজেরাই এটা করেছে। ১৮৩ সঠিক নয়। তিনি আবার অনুরোধ করেন যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন তাঁদের তালিকা সম্পূর্ণ দেওয়া হোক।
বিচারপতি এই প্রশ্নে বলেন,’পুরো প্যানেল কি বাতিল করার দরকার আছে? নাকি যারা ভুয়ো নিয়োগ পেয়েছে তাদের বাতিল করলেই চলবে?’ একইসঙ্গে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, ‘মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হবে, কিন্তু আদালত পদক্ষেপ করলে সেটা আদালতের এক্তিয়ার বহির্ভূত বিষয়!’
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ফের সওয়াল করেন, ‘সিবিআই তদন্ত চলছে। শুধু চাকরি বাতিলই নয়, যাঁরা বেয়াইনি নিয়োগ পেয়েছেন তাঁদের গ্রেফতার করা হোক। মূল অফিস থেকে না দিয়ে অন্য অফিস থেকে ভুয়ো সুপারিশ পত্র দেওয়া হয়েছে। সুপরিকল্পিত দুর্নীতি।’
বিকর্কিত চাকরি প্রাপকদের হয়ে সওয়াল করতে উঠে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যা বলেন, ‘এই প্রথম আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গল বেঞ্চে বিচারপতি ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দিয়েছেন। এই মামলা গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ চুরি করল, ঘুষ নিল, তার অর্থ এই নয় চাকরি পেয়েছেন যাঁরা তাঁরাও চুরি করেছেন। তাহলে তাঁদের এখনও গ্রেফতার করা হল না কেন? কাউকে বলতে দেওয়া হয়নি সিঙ্গল বেঞ্চে। এসএসসি সব সময় ভয় পেয়েছে আদালতে। ২০২১ সালে কি আদৌ কোন প্যানেল ছিল যেটা খারিজ হবে?’ বেছে বেছে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসেই কেন মামলা, সেই প্রশ্নও তোলেন কল্যাণ।