প্যারামেডিক্যালের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, অভিযোগ মানসিক চাপ ও কুপ্রস্তাবের জেরেই আত্মহত্যা!

পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে প্যারা মেডিক্যালের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী বৃষ্টি বেরা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ও ডিউটি ম্যানেজমেন্ট ইনচার্জের মানসিক চাপ ও কুপ্রস্তাবের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

শনিবার রাতে বাম এলাকায় ভাড়া বাড়ির ঘর থেকে বৃষ্টির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ইতিমধ্যে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাঁকুড়ার জয়রামবাটিতে বৃষ্টির বাড়ি। প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করার পর ডিএমএলটি-র ট্রেনিং নেওয়ার জন্য শক্তিগড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। গত ১ বছর ৪ মাস ধরেই তিনি ওই হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ই হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ তাকে অতিরিক্ত ডিউটি করাতো। সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালে ডিউটি ম্যানেজমেন্ট অফিসারও তাকে নানান কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ। আর তার জেরেই বৃষ্টি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের।

বৃষ্টির বাবা বলেন, “আমার মেয়ে প্যারা মেডিক্যালের ছাত্রী ছিল। কাল হঠাৎ করে বাড়ির মালিক ফোন করে বলে, মেয়ে গলায় দড়ি দিয়েছে। আমরা এসে দেখি পুলিশ বডি নিয়ে গিয়েছে। আমরা এসে দেখলাম ধরের ছিটকিনি লাগানো ছিল না, এতেই আমাদের সন্দেহ লাগছে। এখান ১২ জন স্টুডেন্ট, ওকেই বেশিরভাগ সময় ডিউটিতে নিয়ে যেত। টানা ৮ ঘণ্টা করে ডিউটি, স্নান – খাওয়া সারতে পারত না। মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হত।”

এদিকে হাসপাতালের অপারেশনাল ম্যানেজার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “এটা একটা দুর্ঘটনা। বৃষ্টিকে ভালো মেয়ে হিসাবে জানতাম। পুলিশ তদন্ত করছে। আশাকরি পুলিশি তদন্তেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।”

গোটা ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শোকের ছায়া অন্যান্য ছাত্রীদের মধ্যে।