“মীনাক্ষী নয়, দলের ডাকে এসেছি ব্রিগেডে’!”

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠেছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ডিওয়াইএফআইয়ের ইনসাফ যাত্রায় প্রধান মুখ হিসেবে তিনি রাজ্যের বহু জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাঁর কাটআউটও দেখা গেছে বহু জায়গায়। গত তিন মাস মেয়ের সঙ্গে দেখাও হয়নি বাবা সাগর মুখোপাধ্যায় ও মা পারুল মুখোপাধ্যায়ের।
রবিবার কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশে মীনাক্ষীকে সামনে রেখেই বক্তব্য দেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন। সমাবেশে মীনাক্ষীও প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেন।
সভা শেষে মঞ্চ থেকে নেমে মা, বাবার সঙ্গে কথা বলেন মীনাক্ষী। বলেন, ‘সাবধানে যেও।’ পাল্টা মা মেয়েকে বলেন, ‘সাবধানে থাকিস। কবে বাড়ি যাবি?’ মীনাক্ষী বলেন, ‘জানিয়ে দেবো। এখন তো বড় লড়াই হচ্ছে।’
বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানার একটি গ্রামের বছর ৩৬-এর মেয়ে যখন ব্রিগেডের মতো জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন বাবা, মায়ের অনুভূতি কেমন ছিল? জবাবে বাবা-মায়ের মন্তব্য, ‘আমরা ওকে শুধু এক জন মেয়ে মনে করি না। ও একা নয়, সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে লাল পতাকার নীচে কয়েক হাজার ছেলেমেয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। ওদের ইনসাফ যাত্রা যে সফল তা আজকের সমাবেশ প্রমাণ করেছে।’
কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল ধর্ম, জাতির ভিত্তিতে ভাগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে পারুল বলেন, ‘তার ভিত্তিতে আজকের ব্রিগেড সমাবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ সাগর জানাচ্ছেন, তাঁরা মীনাক্ষীর মা-বাবা হিসেবে ব্রিগেডে আসেননি। বলেন, ‘আমরা এসেছি এ রাজ্যের মেহনতি মানুষের লড়াইয়ে সামিল হতে। দুর্নীতি এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজের দাবিতে সকলের সঙ্গে পা মিলিয়ে ব্রিগেডে পৌঁছেছি।’