রিলে মত্ত যৌবন…রিলেই বাজি জীবন! বাড়ছে ভিডিও তৈরী করতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা

সামাজিক মাধ্যমে রিল বানানোর নেশায় প্রাণ হারাচ্ছে যুব সমাজ। ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে, উত্তাল নদীর বাঁকে তলিয়ে গিয়ে, এমনকী নিজের বাড়ির ছাদে পড়ে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
সম্প্রতি আশুতোষ কলেজের এক ছাত্র এক্সকারশনে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। তলিয়ে যাওয়ার আগে তিনি ব্যস্ত ছিলেন ভিডিয়ো তুলতে।
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক সুকন্যা সর্বাধিকারীর মতে, এর নেপথ্যে বয়স জনিত বেপরোয়া ভাব যেমন কাজ করছে, তেমনই আছে অল্প সময়ে সাফল্যের হাতছানি।
প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে পাটুলির ‘সেন্টার ফর স্টাডিজ় ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস’-এ গবেষণারত সৌভিক দাসের মতে, সাফল্যের প্রথাগত মাপকাঠিগুলো বদলে গিয়েছে। এখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর হওয়াটাকেই শুধু সাফল্য বলে ধরা হচ্ছে না। বরং আমার কনটেন্টে কী ভাবে মিলিয়ন ভিউ হয়, সেটা নিশ্চিত করার ইচ্ছে বহু মানুষকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
প্রতিষ্ঠিত কনটেন্ট ক্রিয়েটাররাও এর বদল চাইছেন। ‘দ্য বং ডায়েরি’র পেজ থেকে আশুতোষের মৃত ছাত্রের ছবি শেয়ার করে বলা হয়েছে, ‘ছেলেটি কন্টেন্ট ক্রিয়েটার হতে চেয়েছিল, চেয়েছিল লোকে তাকে চিনুক। কিন্তু সেটা এ ভাবে অবশ্যই নয়।’
কনটেন্ট ক্রিয়েট করতে গিয়ে এমন জীবন নিয়ে বাজি না করেও ভাইরাল হয়েছেন ঝিলম গুপ্ত। তাঁর কথায়, ‘এর কারণ ভাইরাল হওয়ার ইচ্ছে। যার পরিণতি মৃত্যু। যে যা খুশি কনটেন্ট ক্রিয়েট করতেই পারেন, কিন্তু নিজের কথা না ভাবলেও প্রিয়জনদের মুখ চেয়ে এমন কিছু তৈরি না করাই ভালো।’
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটার ও রেডিয়ো জকি অগ্নিজিৎ সেনের মতে, ‘এটাও আসলে একটা যুদ্ধ। লাইক, কমেন্ট, শেয়ার আর ভিউয়ের যুদ্ধ। আমার মনে হয়, একেবারে ছেলেবেলা থেকে স্কুলস্তরেই এ নিয়ে যথাযথ শিক্ষাদানের পদ্ধতি শুরু করা উচিত। কারণ এই রোগ ক্রমশ মহামারীর চেহারা নিচ্ছে।’
আবার অনেকের বক্তব্য, রোল মডেল না থাকা, কর্মসংস্থান কমে আসাই কি তবে এর পরোক্ষ কারণ? তৃণমূলের বিধায়ক মদন মিত্রের সংযোজন, ‘গোটা ইয়ং ব্রিগেড যেন ইলিউশনে রয়েছে। আমি তো ওদের সঙ্গে খুব মিশি, বলতে পারি, অনেকের কোনও হিতাহিত জ্ঞান নেই। আর এই রোল মডেল না থাকার দায় অনেকটা রাজনীতিবিদদেরও। সমাজে সেই প্রভাব আমরা ফেলতে পারছি না নানা কারণে।’