ক্যালশিয়ামের ওষুধ খাচ্ছেন, সাবধান! কিডনিতে পাথর জমতে পারে আপনার!

ক্যালসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়ামের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকেন অনেকেই। কিন্তু এতে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে কিনা, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ঠিক না হলেও পুরোপুরি ভুল নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম, অক্সালেট এবং ফসফরাস মূত্রের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে। পর্যাপ্ত জলের অভাবে এই সমস্ত উপাদান মূত্রনালি কিংবা কিডনিতে জমতে শুরু করে। বেকায়দায় এমন কোনও অংশে তা আটকে গেলে তখন পিঠ, কোমরে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। প্রস্রাব করতে সমস্যা হয়, কারও কারও আবার সংক্রমণের চোটে জ্বরও আসে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ক্যালসিয়ামের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট থেকে কিডনিতে যে ধরনের সমস্যা হতে পারে, তা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে হয় না। গবেষকেরা বলছেন, এই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার উল্টে কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দিতে পারে। কারণ, খাবারের মধ্যে যে ধরনের ক্যালসিয়াম থাকে, তা বিপাক করার নিজস্ব ক্ষমতা শরীরের রয়েছে। কিন্তু বাইরে থেকে সাপ্লিমেন্ট খেলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে তা খাপ খাইয়ে উঠতে পারে না। তাই মূত্রের মধ্যে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট বা ফসফরাসের মাত্রা বাড়তে থাকে। চিকিৎসকেরা বলছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না খেলে, এই সমস্ত খনিজ মূত্রনালি এবং সংলগ্ন অংশে জমতে থাকে।

ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খেলেই যে কিডনিতে পাথর জমবে, এই ধারণা সকলের জন্যই প্রযোজ্য নয়। সাধারণ খাবারের মধ্যে যতটুকু খনিজ থাকে, তা-ও পাথর হওয়ার জন্য যথেষ্ট। কারও কারও ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর জমার প্রবণতা জিনগত। তাই ক্যালসিয়ামের ওষুধ না খেলেও সতর্ক থাকতে হবে।

কিডনি পাথর প্রতিরোধে করণীয়:

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস জল পান করা উচিত।
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে না খাওয়াই ভালো।
অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার কম খান। যেমন: পালং শাক, চকলেট, বাদাম, বীজ ইত্যাদি।
ফসফরাস সমৃদ্ধ খাবার কম খান। যেমন: মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পর্যাপ্ত জল পান করা, ক্যালসিয়াম ও অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে কিডনি পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।