অর্শের বাড়াবাড়ি, এই ৫ ‘ফল’ নিয়মিত খেলেই কমবে সমস্যা!

পাইলস একটি গুরুতর অসুখ। এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর জীবনে বেদনার শেষ নেই! তাঁদের মলত্যাগের সময় রক্ত পড়ে। এমনকী স্টুল পাসের সময় তীব্র যন্ত্রণাও হতে পারে। তাই এই অসুখে আক্রান্তদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হব।
মুশকিল হল, এই অসুখে আক্রান্ত রোগীরা মলত্যাগ নিয়ে এতটাই আতঙ্কে ভোগেন যে তাঁদের মধ্যে অনেকেই টয়লেট পর্যন্ত যেতে চান না। বরং মলের বেগ চেপে রাখতেই বিশ্বাসী তাঁরা। আর পেট পরিষ্কার না হওয়ার কারণে কোষ্ঠের সমস্যা আরও বাড়ে। ফলত, পাইলসের সমস্যাও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।বিশেষজ্ঞদের কথায়, মল খুব শক্ত হলে মলদ্বারের ভিতরের অংশ কেটে যেতে পারে। এর ফলে রক্তপাত শুরু হয়। এই সমস্যার নামই পাইলস। এক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জটিলতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
অনেক সময় পাইলসের একমাত্র সমাধান হল সার্জারি। তবে সমস্যা এই স্তরে পৌঁছানোর আগে ডায়েটে কিছুটা পরিবর্তন করলেই অর্শকে বাগে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে ৫টি ফল আপনাকে এই কাজে সাহায্য করবে।
১. অ্যান অ্যাপেল অ ডে ইজ মাস্ট
আপেল আমাদের অনেকেরই পছন্দের ফল। এই ফলে রয়েছে একাধিক জরুরি ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই রসনাতৃপ্তির পাশাপাশি দেহে পুষ্টির ঘাটতিও মিটিয়ে দিতে পারে আপেল।
এদিকে পাইলসের সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার কাজেও আপেলের জুড়ি মেলা ভার। এই ফলে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার। এই সলিউবল ফাইবার স্টুল সফট করতে পারে। ফলে পায়খানা করার সময়ে চাপ দিতে হয় না। এই কারণেই অর্শের জ্বালাতন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
২. কলাতেই সমস্যা মিটবে
কলা আমাদের সবসময়ের সঙ্গী। এই ফলে উপস্থিত ভিটামিন, খনিজ দেহকে চটজলদি এনার্জি প্রদান করে। ফলে দ্রুত কেটে যায় ক্লান্তি। এছাড়া কলা কিন্তু অর্শের সমস্যাও মিটিয়ে দিতে পারে। এই ফলে রয়েছে এক ধরনের রেজিস্টেন্ট স্টার্চ। এই উপাদান অর্শের সমস্যা কমায়। এছাড়া কলায় উপস্থিত সলিউবল ফাইবারও পাইলসের সমস্যা দূরে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী। তাই অর্শের জ্বালাতন মেটাতে চাইলে নিয়মিত কলা খাওয়া উচিত।
৩. পেঁপেতেই কমে অর্শের জ্বালা-যন্ত্রণা
পেঁপে হল পেটের রোগের বিনাশকারী। এই ফলে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরাসরি কোলোন থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। এছাড়া পেঁপেতে উপস্থিত সলিউবল ফাইবারের ভাণ্ডার মলকে নরম করতে সাহায্য করে। ফলে খুব সহজেই পেট পরিষ্কার হয়ে যায়। পেটে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এই কারণে মলদ্বারের অন্দরে কাটা-ছেঁড়া দ্রুত শুকিয়ে যায়। কমে অর্শের সমস্যা।
৪. পেয়ারা খেলেই খেলা ঘুরবে
পেয়ারার মতো অত্যন্ত উপকারী একটি ফলকে আমরা অবহেলা করি। তবে জানলে অবাক হয়ে যাবেন এই ফলের রয়েছে একাধিক পুষ্টিগুণ। এতে থাকা ভিটামিন, খনিজ, পলিফেনলস, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিন্তু বহু সমস্যার সহজ সমাধান করে দিতে পারে। এছাড়া এতে উপস্থিত ফাইবার সরাসরি পেট পরিষ্কারের কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই নিয়মিত পেয়ারা খেলেই অর্শের মতো সমস্যা নিপাত যায়।
৫. ন্যাশপাতি খেতে ভুলবেন না
আরও এক অবহেলার ফলের নাম হল ন্যাশপাতি। তবে এই ফলেও ফাইবারের প্রাচুর্য রয়েছে। তাই মলকে নরম করার কাজে এর জুড়ি মেলা ভার। এমনকী গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পাইলস আক্রান্তের জ্বালা-যন্ত্রণা দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকরী ন্যাশপাতি। তাই অর্শের সমস্যায় ভুক্তভোগীরা নিয়মিত এই ফল খান। এতেই সমস্যার সহজ সমাধান করা সম্ভব।