মুখে বরফ ঘষলেই কি কুঁচকানো চামড়া টানটান হয়? রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন

বরফের ফেসিয়াল কী, বাড়িতে করা সম্ভব?
বরফের ফেসিয়াল করালে ত্বকের কী কী উপকার পাওয়া যায়, সেই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এই প্রবন্ধে করা হবে। কিন্তু প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক বরফের ফেসিয়াল কী? কোন পদ্ধতিতে এই ফেসিয়াল করানো হয়?

স্পা ওয়ার্লডে এটি ক্রায়োথেরাপি হিসেবেও পরিচিত। তবে বাড়িতেও আপনি আইস ফেসিয়াল বা বরফের ফেসিয়াল করতে পারেন। একটি কাপড়ে বরফ জড়িয়ে নিন।

মুখ পরিষ্কার করে নেওয়ার পরে কাপড়টি আপনার মুখে বুলিয়ে নিতে হবে। আপনার মুখের কোথাও ফোলাভাব থাকলে, তার উপরেও আপনি বরফ ঘষতে পারেন। ৫-৭ মিনিট এই পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিন।

বরফের ফেসিয়াল থেকে কি সত্যিই উপকার পাওয়া যায়?
এই প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসক জয়শ্রী শরদ বলেন, অস্থায়ী কিছু উপকার পাবেন আপনি। তবে আইস ফেসিয়ালের ফল সুদূরপ্রসারী হবে না। কী কী উপকার পাওয়া যায়?

মুখের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে চোখের চারপাশে ফোলাভাব কমায়। তবে কয়েক ঘণ্টাই এর প্রভাব স্থায়ী হয়।
আপনার ত্বক তরতাজা থাকবে।
রক্তজালিকাকে সংকুচিত করে, ফলে কোনও ক্ষত থেকে রক্ত ক্ষরণ হলে তা বন্ধ করে।
আপনার ত্বকের টেক্সচার কয়েক ঘণ্টার জন্যে উন্নত করতে পারে।
মুখে বরফ ঘষলে মলিন হয় বলিরেখা!
আমাদের মধ্য়ে এমন প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, আইস ফেসিয়াল করলে কিংবা মুখে বরফ ঘষলে ত্বকে বয়সের ছাপ রুখে দেওয়া সম্ভব। মুখের বলিরেখাও মলিন হয়। ত্বক থাকে টানটান। এর অ্যান্টি-এজিং গুণের জন্যেই দিনে দিনে আইস ফেসিয়ালের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারণা কতটা সত্যি? বিশ্লেষণ করেছেন চিকিৎসক জয়শ্রী শরদ।

কতটা সত্যি এই ধারণা?
এটি একটি প্রচলিত মিথ বা ভ্রান্ত ধারণা। তিনি বলেন, “আইস ফেসিয়াল করালে মুখে বলিরেখা মলিন হয় না। এর কোনও অ্য়ান্টি-এজিং গুণ নেই। ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখতে এর কোনও ভূমিকা নেই। এসবই প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা যা আপনি নানা জায়গায় আইস ফেসিয়ালের বিষয়ে পড়েন।”

সতর্কবার্তা চিকিৎসকের
সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহার করার আগে অবশ্য়ই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন। ত্বকে কোনও সমস্যা থাকলে বা লাল ভাব থাকলেও বরফের ফেসিয়াল করানোর সময়ে সতর্ক থাকুন।

আপনার অ্যাজমা বা সাইনুসাইটিসের সমস্যা থাকলেও এই ফেসিয়াল এড়িয়ে চলাই ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক জয়শ্রী শরদ।