এই ৫ ভুলেই খাদের কিণারায় পৌঁছে যায় অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ, দেখেনিন

আজকালকার বেশিরভাগ যুবক-যুবতীই প্রেমের নদীতে গা ভাসিয়ে দিতে চান। তবে চাইলেই তো এই কাজটি করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েই মনের মানুষকে আপন করা যায়। আর এই কাজটা করার ট্যালেন্ট বা সময় অনেকের কাছেই নেই।
এখান প্রশ্ন হল, প্রেমের মধু পাননি বলে কি এনারা আজীবন সিঙ্গলই রয়ে যাবেন? না, একবারেই নয়। বরং প্রেমে ব্যর্থ এমন মানুষের জন্যই তো রয়েছে দেখেশুনে বিয়ে। আমাদের দেশে সেই সুপ্রাচীনকাল থেকেই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বিয়ে হচ্ছে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই এখানে চার হাত এক হয়। তারপর সুখে সংসার করতে থাকেন একদম অচেনা দুই প্রাণ।তবে সময়ের ফেরে হাসিখুসি জীবনেও আসতে পারে সুনামী। তখন গোছানো সংসারও ঝড়ের দাপটে ভেঙে ছাড়খাড় হয়ে যেতে পারে। আর বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, সম্পর্কে এই নিম্নচাপ তৈরির পিছনে স্বামী এবং স্ত্রীর কিছু ভুল দায়ী।

তাই সুখে শান্তিতে সংসার করতে চাইলে ঘুনাক্ষরেও কয়েকটি ভুল করা চলবে না। ভাবছেন, এমন ভুলগুলি কী কী? সেই উত্তর পেতে চাইলে আপনাকে প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত যে পড়তেই হবে।

১. রোজকার বিরহেই কাটে সম্পর্কের সুর​
সম্পর্কে এক-আধদিন ঝামেলা হতেই পারে। তবে নিয়মিত ঝগড়া অশান্তি কিন্তু বিপদ সংকেত দেয়। আর এমন সংকেত দেখা দিলেই বুঝবেন সামনেই রয়েছে বিরাট বিপদ। সম্পর্কের গাড়ি এভাবে বাম্পারের উপর দিয়ে চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই তার খেল হবে তামাম। তাই নিজেদের মধ্যে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, এই বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করুন। যদি কোথাও সমস্যা থাকে তাহলে তা সত্ত্বর ঠিক করে নিন। এতেই সম্পর্ককে বিপদের মুখ থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

​২. ইগোতেই শুকিয়ে যায় সম্পর্কের চারা​
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবার প্রতিযোগিতা কিসের? এই সম্পর্কে তো কেবলই পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়। সুখে-দুঃখে যাতে একে অপরকে সঙ্গে নিয়ে সময়টা উতরে যাওয়া যায়, তাই নিশ্চিত করা হয়। তবে বিবাহের এই ধারণাটা অনেকেই বুঝেও বুঝে উঠতে চান না। তাই স্বামী-স্ত্রীর ভিতরেও তৈরি হয়ে যায় ইগো। আর এই বিষের সংস্পর্শে এসেই প্রাণ হারায় অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। তাই যেভাবেই হোক ইগো কমাতে হবে।

​৩. সব বোদ্ধা আবভাব​
সম্পর্কের মধ্যে কোনও একজন সব বোদ্ধা হয়ে গেলে খুব সমস্যা। এনারা যে কোনও বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য ফলাতে যান। আর এই ফাঁকে ভুলে যান যে অপরদিকের মানুষটি এই আচরণে কতটা বিরক্ত হচ্ছেন। এমনকী ধীরে ধীরে এই কারণে পরস্পরের থেকে দূরে যেতে থাকেন দম্পতীরা। তাই আপনাদের মধ্যে কারও যদি সব বোদ্ধা ভাব থাকে, তাহলে তাঁকে বোঝান। নইলে যে সম্পর্ক মাঠে মারা পড়বে।

​৪. সময় দেওয়ার নাম নেই​
এখন স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরি করেন। মাসের শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে মোটা টাকা। এতে সংসারের চালাতে সুবিধা হয়। তবে অনেকেই কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে একে অপরকে সময় দিতেও ভুলে যান। রাতে একসঙ্গে নিদ্রাযাপন করা ছাড়া তাঁদের আর দেখা হয় না। মনে রাখবেন, সম্পর্কে একদম সময় না দেওয়া কিন্তু স্লো পয়জনিং-এর সমান। এটাই রিলেশনশিপকে খাদের কিনারে দাঁড়ি করিয়ে দেয়। তাই যত কাজই থাকুক না কেন একে অপরকে সময় দিতেই হবে।

৫. ঘনিষ্ঠতা হয়েছে দূর​
একটা বয়সের পর শারীরিক দূরত্ব তৈরি হবেই। এটা কালের নিয়মেই ঘটবে। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত নিজেদের ভিতর দূরত্ব তৈরি হলে তা সম্পর্কের সর্বনাশ ডেকে আনে। আর এই বিষয়টা গবেষণাতেও প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। তাই যেভাভেই হোক শারীরিক ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতেই হবে। এতেই আপনাদের বৈবাহিক জীবন হবে দীর্ঘজীবী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *