‘পুজোতে সুস্থ হয়ে উঠুক বন্ধু!’-পুজোর হাত খরচের টাকা রোগগ্রস্ত সহপাঠীকে দিল পড়ুয়ারা

পুজোয় নতুন জামাকাপড় কেনা, ঘুরতে যাওয়া, খাওয়া-দাওয়ার জন্য অনেক শিশুই গুরুজনদের কাছ থেকে টাকা পায়। কিন্তু বাঁকুড়ার এক স্কুলের পড়ুয়ারা সেই জমানো অর্থ নিজেদের দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত বন্ধুর চিকিৎসার জন্য দিয়েছে।

সিমলাপালের পুইপাল থেকে জড়িষ্যা গ্রামের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। কিন্তু কোন ভালো কাজে দূরত্ব কোন বাধা হতে পারে না। পুইপাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদেরই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র কুষাণের দুরারোগ্য রোগের কথা শুনেই নিজেদের জমানো অর্থ তাকে সাহায্য করার জন্য তুলে দিয়েছে।

কুষাণ ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় একবার অস্ত্রোপচার হলেও সফল হয়নি। বর্তমানে সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা কুষাণের ব্যায়বহুল চিকিৎসা করানো তাঁর পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পুইপাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক করালীকান্ত সৎপতি বলেন, “আমাদের কাছ থেকে কুষাণের খবর শুনেই ওরা প্রত্যেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আর্থিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে।”

জড়িষ্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ঝন্টু মান্না বলেন, “পুইপাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা যথেষ্ট মানবিক, তাদের এই কর্মকাণ্ড সে কথা প্রমাণ করে।”

সিমলাপাল চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক আসিফ ইকবাল বলেন, “অনেক সময় শিশুরাও বড়দের পথ দেখায়, আর পুইপাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা সেই জিনিসটাই করে দেখালো। আমি খুবই খুশি। এভাবে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেকেই এগিয়ে এলে ছোট্ট কুষাণ খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আমি আশাবাদী।”

এই ঘটনাটি শিশুদের মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। এটি আমাদের সকলকে শিক্ষা দেয় যে, সাহায্য করার জন্য বয়স বা অবস্থান কোনো বাধা নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *