‘বন্ধু খুঁজে পেয়েছি তোমায়…’, চাঁদে নয়া নতুন সঙ্গী পেল চন্দ্রযান ৩-এর রোভার প্রজ্ঞান!

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে সফলভাবে কাজ করে চলেছে ভারতের চন্দ্রযান ৩। এর রোভার প্রজ্ঞান চাঁদের তাপমাত্রা থেকে শুরু করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে। কিন্তু, চন্দ্রযান ৩ চাঁদে একা নয়, আছে তার সঙ্গীও। চীনের চ্যাং ই ৪ মহাকাশযানের রোভার উতু ২ও চাঁদের পৃষ্ঠে সক্রিয়।
২০১০ সালে চিনের চ্যাং ই ৪ চাঁদে অবতরণ করে। এর অবতরণ স্থল ছিল ৪৫.৪৫৬১S অক্ষাংশ এবং ১৭৭.৫৮৮৫E দ্রাঘিমাংশে। অন্যদিকে, চন্দ্রযান ৩ অবতরণ করেছে ৬৭.৯৩১৩S অক্ষাংশ এবং ৯০.০২৮৩E দ্রাঘিমাংশে। এই দুটি অবতরণ স্থলের দূরত্ব প্রায় ১৯৪৮ কিলোমিটার।
ফলে, চন্দ্রযান ৩-এর রোভার প্রজ্ঞান এবং চিনের রোভার উতু ২-এর দেখা হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। কারণ, প্রজ্ঞান ল্যান্ডারের থেকে মাত্র ৫০০ মিটার পর্যন্ত ঘোরাফেরা করতে পারে। অন্যদিকে, উতু ২-এরও একই সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তাই, দুটি মহাকাশযানের রোভারই চাঁদের পৃথক পৃথক অঞ্চলে কাজ করবে।
কিন্তু, চাঁদে তার একাকীত্ব ভাঙার সম্ভাবনা নেই। কারণ, চিনের চ্যাং ই ৪-এর রোভার উতু ২-এর সঙ্গে প্রজ্ঞানের দেখা হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
চ্যাং ই ৪ ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি চাঁদে অবতরণ করেছিল, যা চন্দ্রযান ৩-এর অবতরণ স্থল থেকে অনেকটাই দূরে। ISRO-র প্রাক্তন গবেষক সৈয়দ আহমেদের মতে, এই দুটি রোভারের মধ্যে দূরত্ব প্রায় এক হাজার ৯৪৮ কিলোমিটার।
প্রজ্ঞান ল্যান্ডারের কাছ থেকে মাত্র ৫০০ মিটার পর্যন্ত ঘোরাফেরা করতে পারে। অন্যদিকে, উতু ২-এর অবস্থাও একই রকম। তাই, দুই রোভারের মধ্যে কোনও যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ সম্ভব নয়।
এদিকে, চীন আবারও চাঁদে মহাকাশযান পাঠাতে চলেছে। এই মিশনের নাম হবে ‘চ্যাং ই ৬’। এছাড়াও মহাকাশ গবেষণার আরও একাধিক দেশ এগিয়ে এসেছে। আগামীদিনে NASA-র চন্দ্রমিশন ‘আর্টিমিস P1 এবং P2’ রয়েছে।
এছাড়াও চাঁদ জয়ের পাশাপাশি সৌর মিশন করতে চলেছে ISRO। আগামী ২ সেপ্টেম্বর মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দেবে আদিত্য এল ওয়ান। এই মিশন সফল হলে সৌরজগত সম্পর্কে একাধিক নয়া তথ্য সামনে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।