সুন্দরী প্রতিযোগীদের আয়োজকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, তোলপাড় নেটদুনিয়া

আয়োজকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ এনেছে সুন্দরী প্রতিযোগী মিস ইউনিভার্স ইন্দোনেশিয়ায় অংশ নেয়া ছয় প্রতিযোগী।
তাদের অভিযোগ, শারীরিক পরীক্ষার নামে শুধুমাত্র অন্তর্বাসে দাঁড় করানো হয় মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগীদের। এরপর অর্ধনগ্ন অবস্থায় তাদের শরীরে কোনো দাগ আছে কী না তা দেখার জন্যে হাত দেওয়া হয় এবং সেই অবস্থায় তাদের ক্যামেরাবন্দি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন কয়েকজন।
প্রতিযোগীরা বলেন, আমার শরীরের ওপর আমার অধিকার খর্ব করেছে আয়োজকরা।
ইন্দোনেশিয়ার সুন্দরীদের এমন অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাদের মামলার পর পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
তাদের আইনজীবী মেলিসা অ্যাগ্রেইনি বলেন, সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসে যৌন হয়রানির শিকার হয় ছয় তরুণী। আয়োজকদের হাতে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন তারা, ‘টপলেস’ হতে বাধ্য করা হয়েছে তাদের। এখানেই শেষ নয়, অর্ধনগ্ন অবস্থায় তাদের শরীরে হাত দেওয়া থেকে তাদের ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গত ২৯ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সে দেশের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব চলেছে।
জানা গেছে, ছয় জন প্রতিযোগিকে ঘরভর্তি লোকের সামনে জামাকাপড় খোলবার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধুমাত্র অন্তর্বাসে দাঁড় করিয়ে চলে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
তাদের আইনজীবী মেলিসা অ্যাগ্রেইনি বলেন, এরপর প্রতিযোগীদের ওই অবস্থায় ক্যামেরাবন্দি করা হয়। এমন কোনও নিয়ম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় নেই, দাবি আইনজীবীর।
মিস ইউনিভার্সের আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এরইমধ্যে এমন অভিযোগের কথা কানে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে খতিয়ে দেখছেন তারা।
আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মিস ইউনিভার্স (আয়োজক)-এর পক্ষ থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে খুব কড়াভাবে নেয়া হয়। মিস ইউনিভার্সের মঞ্চ যাতে মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত হয়, সেটা সুনিশ্চিত করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও লক্ষ্য’।
ইন্দোনেশিয়ার মিস ইউনিভার্সের এক প্রতিযোগীর অভিযোগ, আয়োজকরা তাকে অশালীনভাবে ক্যামেরার জন্য পোজ দিতে বাধ্য করে। দু-পা ফাঁক করে তাকে পোজ দিতে বলা হয়, এমনই বিস্ফোরক দাবি তার।
তিনি বলেন, ‘আমার খুব অস্বস্তিবোধ হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল আমার শরীরে কেউ উঁকি দিচ্ছে’। এই বিষয় নিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনওরকম জবাব মেলেনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই ছয় প্রতিযোগী।
মুসলিম অধ্যুষিত ইন্দোনেশিয়ার একাধিক ধর্মীয় সংগঠন আগেই এই ধরণের বিউটি পেজেন্ট বা সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই ঘটনার পর সেই প্রতিরোধ আরো তীব্র হবে বলে ধারণা অনেকের।
সূত্র: বিবিসি