সীমান্তের বরফ কি গলছে? দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে চিনের বড় ঘোষণা, নয়া সমীকরণ বিশ্ব রাজনীতিতে

পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল-ইরান সংঘাত ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এশিয়ার দুই শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বইতে শুরু করেছে বসন্তের হাওয়া। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের ‘এক সুর’ আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মুম্বইয়ে নিযুক্ত চিনের কনসাল জেনারেল কিন জি (Qin Jie) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত ও চিনের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং দুই দেশই এখন বন্ধুত্বের সঠিক পথে এগোচ্ছে।

দিল্লিতে বসবে ব্রিকস-এর আসর:
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সবথেকে বড় খবর হতে চলেছে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘ব্রিকস সম্মেলন’ (BRICS Summit)। কিন জি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই সম্মেলন দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তাঁর মতে, গত বছর অগাস্টে তিয়ানজিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে হওয়া সফল বৈঠকটিই সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, “২০২৬-এ ভারত এবং ২০২৭-এ চিন ব্রিকস-এর সভাপতিত্ব করবে। এই ধারাবাহিকতা কেবল দুই দেশের জনগণের কল্যাণ করবে না, বরং বিশ্ব স্থিতিশীলতায় গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করবে।”

চিনা বিদেশমন্ত্রীর তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা:
অন্যদিকে, মার্চ মাসে বেজিংয়ে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস’-এর এক অধিবেশনে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi) ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং সহযোগী। ওয়াং ই বলেন, “ভারত ও চিন যদি একসঙ্গে কাজ করে, তবে গ্লোবাল সাউথ এক নতুন আশার আলো দেখবে। আগামী দুই বছর ব্রিকস-এর সভাপতিত্বের ক্ষেত্রে দুই দেশের একে অপরকে পূর্ণ সমর্থন করা উচিত।”

যুদ্ধের আবহে ভারতের ভূমিকা:
ভারত বরাবরই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত মেটাতে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে। আমেরিকা ও ইরান— উভয় পক্ষের সঙ্গেই ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে সাউথ ব্লক। এই সংকটের আবহে চিনের এই ইতিবাচক মনোভাব এবং ভারতের সভাপতিত্বে হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনকে সমর্থন করার বিষয়টি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, এশীয় দেশগুলি এখন পশ্চিমী শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে মরিয়া।