এক ঘণ্টারও বেশি জলের তলায় ছিলেন রাহুল! ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিউরে ওঠার মতো তথ্য, কী ছিল সেই ভাইরাল ফুটেজে?

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া টলিপাড়ায়। কিন্তু এই মৃত্যুকে ঘিরে পরতে পরতে জমা হচ্ছে ধোঁয়াশা। পুলিশি তদন্তে উঠে আসা শ্যুটিংয়ের ভিডিও ফুটেজ এবং হাসপাতালের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে শ্যুটিং ইউনিটকে।
ক্যামেরায় ধরা পড়ল দুর্ঘটনার মুহূর্ত:
পুলিশের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, শট চলাকালীন রাহুল এবং সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা সমুদ্রের অনেকটা গভীরে চলে গিয়েছিলেন। হঠাৎই শ্বেতা ভারসাম্য হারিয়ে জলে পড়ে যান, তাঁর পরপরই তলিয়ে যান রাহুলও। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শ্বেতাকে দ্রুত উদ্ধার করে একটি বোটে তুলে আনা হলেও, রাহুলের কোনো হদিস মিলছিল না। বেশ কিছুক্ষণ পর ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়। ইউনিটের সদস্যদের বয়ান অনুযায়ী, দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর রাহুলকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ময়নাতদন্তের হাড়হিম করা তথ্য:
তমলুক হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক রিপোর্টে যা উঠে এসেছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো:
জলের নিচে দীর্ঘক্ষণ: চিকিৎসকদের অনুমান, রাহুল অন্তত এক ঘণ্টারও বেশি সময় জলের নিচে ছিলেন। সাধারণ ডুবন্ত মানুষের ক্ষেত্রে ফুসফুসের যে অবস্থা হয়, রাহুলের ক্ষেত্রে তা ছিল অনেক বেশি ভয়াবহ।
বালি ও নোনা জল: অতিরিক্ত পরিমাণ বালি এবং নোনা জল রাহুলের ফুসফুস ও খাদ্যনালীতে ঢুকে গিয়েছিল। যার ফলে তাঁর ফুসফুস ফুলে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
মৃত্যুর কারণ: মূলত শ্বাসনালীতে অত্যাধিক বালি ঢুকে দমবন্ধ হয়েই (Asphyxia) তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে পুলিশ:
শরীরে কোনো অ্যালকোহল বা বিষক্রিয়া ছিল কি না, তা জানতে ভিসেরা রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে কোনো ‘ফাউল প্লে’ বা ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মেলেনি। প্রশ্ন উঠছে, সমুদ্রের অত গভীরে শ্যুটিং করার সময় কেন পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট বা বিশেষজ্ঞ ডুবুরি মজুত রাখা হয়নি? শ্যুটিং ইউনিটের সদস্যদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।