বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালী? উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে মোদীকে জরুরি ফোন ট্রাম্পের!

ভারতের জন্য এল বড় আপডেট! পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) যুদ্ধের দামামা যত বাড়ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতির সংকট। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। দুই বিশ্বনেতার আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)—যা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত।

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, দুই নেতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে একমত হয়েছেন মোদী ও ট্রাম্প।

কেন চিন্তায় ভারত ও আমেরিকা? পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই জলপথ কোনো কারণে অবরুদ্ধ হলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। ভারত তার জ্বালানি আমদানির জন্য বড়লাংশে এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। তাই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ভারতের পকেটে বড় টান দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের আশ্বাস: রান্নার গ্যাস নিয়ে আতঙ্ক নয় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে রান্নার গ্যাস (LPG) বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে। তবে কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে এলপিজি বা জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। আমদানির ক্ষেত্রে বিকল্প পথ ও পরিকল্পনার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। অপ্রয়োজনে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত গ্যাস বুক না করার অনুরোধ জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।

মোদী ও ট্রাম্পের এই আলোচনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে। এখন দেখার, ওয়াশিংটন ও দিল্লির এই তৎপরতা বিশ্ব বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকরী হয়।