ভোটের আগে রাঢ়বঙ্গে বিজেপির ‘মাস্টারপ্ল্যান’! ৫৬ আসনের প্রার্থীকে নিয়ে বিশেষ ক্লাস নিলেন সতীশ ধন্দ

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নবান্ন দখলের লড়াইয়ে এবার ‘রাঢ়বঙ্গ’-কে পাখির চোখ করল বিজেপি। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের একাধিক কেন্দ্রে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হোটেলে ৫৬ জন প্রার্থীকে নিয়ে এক ‘হাইভোল্টেজ’ বৈঠক করল গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বৈঠকের মূল লক্ষ্য: কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, সতীশ ধন্দ এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে এই বৈঠকের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল:

  • সমন্বয় বৃদ্ধি: প্রার্থীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিবাদ মিটিয়ে একযোগে কাজ করা।

  • সংগঠন মজবুত: রাঢ়বঙ্গের যে আসনগুলি বর্তমানে তৃণমূলের দখলে, সেখানে সংগঠনের ভিত শক্ত করা।

  • রণকৌশল নির্ধারণ: ভোটের ময়দানে তৃণমূলকে রুখতে চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা।

শমীক ভট্টাচার্যের হুঙ্কার: বৈঠক শেষে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “এবার রাঢ়বঙ্গে তৃণমূলের বিসর্জন নিশ্চিত। মানুষ পরিবর্তন চাইছে। বিজেপিই হবে বিকল্প সরকার।” পাশাপাশি ভোটার তালিকায় কারচুপি (SIR ইস্যু) নিয়ে সরব হয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, বিজেপি-র দাবি না মানলে নির্বাচন হতে দেবেন না।

তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ: বিজেপির এই তৎপরতাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসক দল। রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার পাল্ট তোপ দেগে বলেন, “ভোটের আগে পরিযায়ী নেতাদের মতো বাইরের নেতারা আসেন, আবার চলেও যান। বাংলার মানুষ উন্নয়ন দেখেই ভোট দেবেন।” ২০২১-এর পুনরাবৃত্তি হবে বলেও দাবি করেন তিনি।