বিধায়কের মাথায় হাত! টিকিট পেয়েও ভোটে লড়া নিয়ে অনিশ্চয়তা, খোদ তোরাফ হোসেনের নামই ‘বিচারাধীন’!

এসআইআর (SIR)-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই যেন বজ্রপাত হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের শাসক শিবিরে। টিকিট পকেটে থাকলেও আদৌ কি ভোটে লড়তে পারবেন তিনি? এই প্রশ্নই এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে কুমারগঞ্জের দু’বারের তৃণমূল বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডলকে। রবিবার সকালে প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, খোদ বিধায়কের নামই রয়েছে ‘বিচারাধীন’ বা অমীমাংসিত বিভাগে। অর্থাৎ, বর্তমানে তিনি একজন বৈধ ভোটার নন।

কেন এই বিপত্তি? জানা গিয়েছে, বাবার নামের বানানে সামান্য ভুলের কারণে তোরাফ হোসেনকে আগেই এসআইআর-এর হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। বিধায়কের দাবি, তিনি নির্দিষ্ট সময়ে সমস্ত বৈধ নথি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তালিকা বেরোতেই দেখা যায়, তাঁর পরিবারের সবার নাম থাকলেও রহস্যজনকভাবে তাঁর নামটিই ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, তোরাফ হোসেন ৩৬ বছর সরকারি চাকরি করেছেন এবং বর্তমানে একাধারে পেনশনভোগী ও জনপ্রতিনিধি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর নাম কেন বাদ পড়ল, তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

একা বিধায়ক নন, বিপাকে সাধারণ মানুষও কেবল বিধায়কই নন, কুমারগঞ্জ ব্লকের জাখিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চকমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয় বুথে প্রায় ৩৫০ জনের নাম এই বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। ভোটার লিস্টে নাম না থাকলে যেমন ভোট দেওয়া যায় না, তেমনই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াও অসম্ভব। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রবিবার সকালে বিধায়কের অফিসে ভিড় জমান তাঁর অনুগামীরা। ক্ষুব্ধ বিধায়ক এর নেপথ্যে বিজেপির চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন। তোরাফ হোসেনের অভিযোগ, “আমি বাড়ির প্রধান, অথচ আমার নামই বাদ দেওয়া হল! এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।”

রাজনৈতিক তরজা ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন বিধায়ক। প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে যান্ত্রিক ও প্রশাসনিক বিষয় বলে দায় ঝেড়ে ফেলেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে খোদ বিধায়কের ভোটাধিকার নিয়ে এই টানাপড়েন বঙ্গ রাজনীতিতে নয়া মাত্রা যোগ করল।