বছরে কত টাকার বিল মেটাচ্ছেন? ১ এপ্রিল থেকে আয়কর দপ্তরের কড়া নজরদারিতে আপনার ক্রেডিট কার্ড!

১ এপ্রিল থেকে দেশে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত নিয়মে একগুচ্ছ বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। আপনি যদি নিয়মিত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন, তবে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন আর্থিক বছর শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কোটি কোটি গ্রাহকের লেনদেনের অভ্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে এই নতুন নির্দেশিকা। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং বড় অঙ্কের লেনদেনে নজরদারি বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ক্রেডিট কার্ডের বিল পেমেন্টের ওপর কড়া নজর রাখবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। বিশেষ করে যারা বছরে একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি অর্থ ক্রেডিট কার্ডের বিল হিসেবে পরিশোধ করেন, তাদের তথ্য সরাসরি আয়কর দপ্তরের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ক্যাশ পেমেন্ট—উভয় ক্ষেত্রেই আলাদা আলাদা সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যারা নগদ অর্থে (Cash) ক্রেডিট কার্ডের বিল মেটান, তাদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর হচ্ছে। নির্ধারিত সীমার বেশি নগদ টাকা জমা দিলে সেই তথ্য রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক হতে পারে। তাই বড় অঙ্কের বিল মেটানোর ক্ষেত্রে এখন থেকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে গ্রাহকদের।

পাশাপাশি, নথিপত্র সংক্রান্ত নিয়মেও কিছু শিথিলতা আসতে পারে। কার্ডের স্টেটমেন্টকে এখন থেকে পরিচয়পত্র বা ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এটি কার্যকর হলে নতুন কার্ড আবেদন বা কেওয়াইসি (KYC) আপডেটের প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে। এছাড়া, ট্যাক্স ও জিএসটি পেমেন্টের ক্ষেত্রেও ক্রেডিট কার্ডের ভূমিকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মনে রাখবেন, কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ফি মেটালে অতিরিক্ত প্রসেসিং চার্জ লাগতে পারে। অন্যদিকে, কর্পোরেট কার্ডের ক্ষেত্রেও রাশ টানছে কোম্পানিগুলো। ব্যক্তিগত ও অফিসের খরচ এখন থেকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখাতে হবে। এমনকি নতুন কার্ড ইস্যু করার সময় প্যান (PAN) কার্ড বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।