প্রথম স্ত্রী-কে ডিভোর্স না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে? মহা বিপদে পড়তে পারেন! জেনে নিন দেশের কড়া আইন কী বলছে

ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় বিবাহবন্ধন অত্যন্ত পবিত্র হলেও, আইনি মারপ্যাঁচ না জানলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে প্রথম পক্ষের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না ঘটিয়ে পুনরায় বিবাহ করা ভারতে কেবল অনৈতিক নয়, বরং একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। হিন্দু বিবাহ আইন ১৯৫৫ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩ অনুযায়ী, এই ধরনের বিয়ের কোনো আইনি বৈধতা নেই।
দ্বিতীয় বিয়ে কখন অপরাধ? হিন্দু বিবাহ আইন (যা বৌদ্ধ, জৈন ও শিখদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য) অনুসারে, আগের পক্ষের স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় এবং ডিভোর্স ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী তাঁর সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে। শুধু তাই নয়, যদি কেউ প্রথম বিয়ের কথা গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার ধারাও যুক্ত হবে।
দ্বিতীয় স্ত্রীর অধিকার ও সন্তানের ভবিষ্যৎ: আইনের চোখে দ্বিতীয় বিয়ে গোড়া থেকেই অবৈধ। ফলে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী কোনোভাবেই ভরণপোষণ বা সম্পত্তির আইনি অধিকার দাবি করতে পারেন না। তবে এই সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানের ক্ষেত্রে আইন কিছুটা মানবিক। হিন্দু বিবাহ আইন ও স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী, বিয়ে অবৈধ হলেও ওই সম্পর্কের সন্তান ‘বৈধ’ বলে গণ্য হবে। সেই শিশু তার বাবা-মায়ের অর্জিত সম্পত্তিতে ভাগ পাবে, তবে বাবার পৈতৃক সম্পত্তিতে তার অধিকার থাকবে অত্যন্ত সীমিত।
ব্যতিক্রম কী? খ্রিস্টান বা ভিনধর্মী বিবাহের ক্ষেত্রেও (স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট) নিয়ম একই। তবে কেরল হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যদি আইনি বিচ্ছেদের দিনই কেউ পুনরায় বিবাহ করেন, তবে তাকে সবসময় অবৈধ বলা যায় না। কিন্তু মোটের ওপর প্রথম বিবাহে আইনি ইতি না টেনে দ্বিতীয়বার ছাঁদনাতলায় বসা মানেই জেলযাত্রা নিশ্চিত। তাই দ্বিতীয় সম্পর্কের পথে হাঁটার আগে আইনি বিচ্ছেদ নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।